কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম ৫ রাস্তা মোড়ে অবস্থিত চিত্রা আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। গতকাল ১৪ই এপ্রিল, রবিবার, দুপুর আনুমানিক ২টা‘র দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেল থেকে দুজন পুরুষ ও দুজন নারীকে আটক করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরেই এখানে চলে আসছে দেহব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, বড় অংকের টাকা দিলেই হোটেল কর্তৃপক্ষ যাচাইকৃত পরিচয়পত্র ছাড়াই নারী-পুরুষকে কক্ষ বরাদ্দ দেয়। এতে করে বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের এই হোটেলে ঘন ঘন দেখা যায়।
তদন্তে জানা গেছে, আটক নারীরা ভ্রাম্যমাণ পতিতা এবং এদের রয়েছে একটি সংগঠিত চক্র বা নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, তারা ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে।
স্থানীয় সূত্র ও হোটেল কর্মীদের দাবি, হোটেলের এক কর্মচারী দীপু এদের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে বারবার “দীপু ভাই” নামটি উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে এক হোটেল কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সাংবাদিক ভাই, নিউজ করার দরকার নাই। আমাকে সেলিম ভাই পাঠাইছে, টাকা-পয়সা দিয়ে আপাতত বিষয়টা সামলে ফেলেন।”
হোটেলের মালিক সেলিম মুঠোফোনে এক প্রশ্নের জবাবে জানান,
“ভাই আমি দূরে আছি। আমার ভুল হয়েছে, আপাতত বিষয়টা সামলে নেন। আমি লোক পাঠিয়েছি, তাদের সাথেই কথা বলেন।”
তবে এই ধরনের স্বীকারোক্তি হোটেল মালিকের দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অপরদিকে, কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানান,
“চারজনকে আটক করা হয়েছিল, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
তবে তাদের কেন ছেড়ে দেওয়া হলো সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ওসি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। কুষ্টিয়ার মতো শহরে এমন অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা ও নিয়মিত মনিটরিং দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
