কুষ্টিয়ায় গৃহবধূর ঘরে ঢুকে টাকা-স্বর্ণ চুরির অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় গৃহবধূর ঘরে ঢুকে টাকা-স্বর্ণ চুরির অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৯, ২০২৬

কারণ জানতে গিয়ে স্বামী-ভাসুর আহত

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের আমানতপুর গ্রামে এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কারণ জানতে গেলে গৃহবধূর স্বামী ও ভাসুরকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে ইসমত আরা (২০) নামে এক গৃহবধূ জানান, গত ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন।

তার স্বামী কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর তিনি ঘরে একা ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তি গোপনে ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে খাটের নিচে রাখা নগদ ২ লাখ টাকা এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৫ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চেইনের আনুমানিক মূল্য ৭৭ হাজার ১৬০ টাকা বলে দাবি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, চুরির পাশাপাশি ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে মানহানিকর আচরণের চেষ্টা করেন।

এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে গৃহবধূর স্বামী তুহিন ও তার বড় ভাই সালমান রহমান অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চান। এ সময় অভিযুক্ত ইদ্রিস, সিদ্দিক ও আলম তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এতে তুহিন ও সালমান রহমান আহত হন। তুহিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হয় বলে পরিবারের দাবি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, আহত তুহিনের মাথায় ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

চিকিৎসা শেষে আহতদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইদ্রিসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বিচার হয়েছে এবং তারা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে পরে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। এর কিছু সময় পর অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে আলামপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা সাদ আহমেদ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের নিকট আত্মীয়স্বজন হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিতে অভিযুক্তদের শাস্তি হিসেবে জুতার আঘাত এবং এক লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে লিখিত সালিশনামাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তুহিন এসব দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, গ্রামের কয়েকজন লোক বসেছিল ঠিকই, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তাই তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা চান।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর একাংশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ইদ্রিস আগে থেকেই খারাপ চরিত্রের মানুষ। তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।