কুষ্টিয়ায় খেলাপি ঋণ আদায়ে গ্রহীতাদের বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় খেলাপি ঋণ আদায়ে গ্রহীতাদের বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ খেলাপি লোন আদায়ে এবার অভিনব পন্থায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারারী। ছুটির দিনে ব্যাংক বন্ধ থাকায় শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ম্যানেজার গ্রহীতাদের বাড়ির সামনে গিয়ে এ কর্মসূচী পালন করেন। গ্রহীতার ছবি যুক্ত ব্যানার হাতে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিনিয়োগের টাকা আদায়ে গ্রহকের গ্রহীতার বাড়ির সামনে অবস্থান নেন তারা। অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। খেলাপি ঋণের টাকা আদায়ে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কুষ্টিয়ায় কর্মরত এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি(এক্সিম)ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঋণ আদায়ে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে তাঁরা খেলাপি ঋণগ্রহীতা দুজনের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ হাতে নেন।

গতকাল শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় ঋণখেলাপি মোঃ রাশিদুল ইসলাম (অটল)-এর বাসার সামনে ও পুলিশ লাইনের সামনে হাজীগলিতে মোঃ ইউনুস আলীর বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন কুষ্টিয়া শহরের এই ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেও একই কর্মসূচী পালন করেন। দুজনই চালকল ব্যবসায়ী। ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মোঃ রাশিদুল ইসলাম(অটল)চালকল ব্যবসায়ী। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াশিশা এলাকায় আল্লাহরদান রাইস মিলের স্বত্তাধিকারী। তিনি রাইস মিলের অনূকুলে ২০১০ সালে ব্যাংক থেকে প্রথমবার ১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এরপর তিনি বছর বছর ধরে বিনিয়োগ বাড়াতে থাকেন। কিন্তু ব্যাংককে টাকা ঠিক মতো দেন না। বর্তমানে ব্যাংক তার কাছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওনাা রয়েছে। গত ৬ মাস ধরে তিনি কোন টাকা পরিশোধ করছেন না। বারবার নোটিশ করা হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। এদিকে একইভাবে কবুরহাট এলাকার ইফাদ অটো রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারী মোঃ ইউনুস আলী তার চালকলের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ২০১৭ সালে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বর্তমানে ব্যাংক তার কাছ থেকে ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাবে। গত ৩ বছর ধরে তিনি কোন টাকা দেন না। বারবার নোটিশ করা হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। নিরুপায় হয়ে শনিবার সকাল থেকে তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। মাইক হাতে শীর্ষ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

এসময় বাড়ির সামনে এমন কর্মসূচি দেখতে আশপাশের বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। তাঁরা ব্যতিক্রম এই কাজ দেখে কারণ জানতে চান। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি সবাইকে অবগত করেন। বেলা ১১টার দিকে কোর্টপাড়া এলাকায় আধা ঘন্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫জন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ব্যানার হাতে আধা ঘণ্টা অবস্থান করে তাঁরা চলে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ইউনুছ আলী বলেন, রাশিদুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে তার বাড়ি ও অফিসে গিয়েছিলাম। তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। তার কারণে শাখায় আমানতকারীদের টাকা দিতে পারছি না। কারণ আমানতের টাকা দিয়েইতো তাদের বিনিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।’ অপরদিকে এব্যাপারে রাশিদুল ইসলামকে বাসায় পাওয়া যায়নি। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়ির অন্য বাসিন্দারা কথা বলতে রাজি হননি। একইভাবে বেলা ১২টার দিকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা ইউনুস আলীর বাড়ির সামনে গিয়ে একই কর্মসূচী পালন করেন। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেও অবস্থান নেন ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার এফএভিপি এবং সেকেন্ড অফিসার মইনুল হোসেন, এফএভিপি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্য মোঃ তানসেন হোসেন, এসপিও এন্ড বিনিয়োগ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাদের গনি এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মাদ খালিদ হাসান। ব্যাংক কর্মকর্তা মইনুল হোসেন বলেন, শত চেষ্টা করেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সামাজিক চাপ প্রয়োগের জন্যই তাঁরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।