বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কারারক্ষীদের উপর মারপিট করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে বেশ কয়েকজন কয়েদি পালানোর ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে আলোচিত মিলন হোসেনকে (২৭) ১০ টুকরো করে হত্যা মামলায় মূল হোতা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজীব শেখ সহ অন্তত ১‘শ ৫ জন কয়েদি পালিয়েছে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজন ফেরত এসেছে। এখনও ৯৮ জন আসামী পলাতক রয়েছে। গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫০মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন কারারক্ষী আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শতাধিক রাউন্ড গুলি উড়ো ফায়ার করে কারারক্ষীরা। এমন পরিস্থিতিতে কারাগারে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার আব্দুল বারেক। এ বিষয়ে জেল সুপার আব্দুল বারেক বলেন, দুপুর একটা ৫০মিনিটের দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পালিয়েছে। তারা প্রথমে ভিতরের একটি গেট ভেঙে ফেলেন। এরপর মুল গেটে দায়িত্বরত কারারক্ষীদের উপর হামলা করে এবং বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। এতে ১০ থেকে ১৫ জন কারারক্ষী আহত হয়েছেন। কয়েদি সজিবের নেতৃত্বে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটেছে।
পরে আরও অনেক কয়েদি বেরিয়ে যাওয়ার যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা স্কুল ক্যাম্পের কমান্ডার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুল আলম শিকদার বলেন, কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে বেশ কয়েকজন কয়েদি পালিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কয়েকটি টিম কারাগারে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কতজন পালিয়েছে সেটা জানা যায়নি।কারাগারে কর্মরত সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। কারাগার থেকে পলাতক সজীব শেখ (২৪) কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি। সে কুষ্টিয়া শহরের কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রধান ছিল।
শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় সজীবকে। এরপর তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সজীব মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। প্রসঙ্গত, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ত্রাসীদের দাবি করা চাঁদা না দেওয়ার কারণে মিলন হোসেনকে হত্যার পর মরদেহ পদ্মার চরে পুঁতে ফেলা হয়।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পদ্মা নদীর চরের চার স্থান থেকে মরদেহের ১০ টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মিলন হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব বাহির মাদি এলাকার মাওলা বক্সের ছেলে। তিনি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতেন। গত ১০ মাস আগে বিয়ে করেন। স্ত্রী মিমিকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে চার আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
