কুষ্টিয়ায় সরকারি জায়গা দখল করে ধান চাষ করছেন এক কাউন্সিলর পুত্র। এমনকি তার বাড়ির মধ্য দিয়ে কোয়াটারের সরকারি প্রাচীর ভেঙ্গে ওই জায়গা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন (বিটিসিএল) কর্মচারীদের কলোনির জায়গা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওই কাউন্সিলর পুত্রের বিরুদ্ধে।

তিনি হলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিস কোরাইশীর ছেলে হাসির কোরাইশী। তাদের এহেন কর্মকান্ডের অভিযোগ করেছে সেখানকার বসবাসরত কর্মচারীরা। এবিষয়ে কাউন্সিলর পুত্রের নামে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। আর বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। জানা যায়, কুষ্টিয়া পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন (বিটিসিএল) কুষ্টিয়া অঞ্চলের কর্মচারীদের বসবাসের নির্ধারিত স্থান যা ছোট ওয়ালেস নামে পরিচিত। উক্ত কলোনির চারিদিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত। সেখানে সাত থেকে আটটি পরিবার কর্মচারীরা বসবাস করে। উক্ত বসত এলাকার মধ্যে কয়েক বিঘা পতিত জায়গা রয়েছে। এইসব জমির ঘাস কলোনীর কর্মচারী ও অত্র অঞ্চলের মানুষেরা গৃহপালিত পশুকে খাওয়াতো। কিন্তু হঠাৎ করে জমিটি স্থানীয় ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিস কোরাইশীর ছেলে হাসিব কোরাইশী দখল করে সেখানে ধান চাষ শুরু করেন। তার সাথে আছে রয়েছে স্থানীয় অনিকসহ আরো বেশ কয়েকজন। কলোনিতে বসবাসকারী কর্মচারীরা বলেন, বহুদিন ধরেই আমাদের উপরে বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার চলছে। নির্বাচনের তিন-চার দিন পর থেকেই তারা এসব কার্যকলাপ শুরু করেন। ধান লাগাতে নিষেধ করলে তারা এক নেতার নাম ধরে বলেন, আমরা নেতাকে জিজ্ঞাসা করেই ধান চাষ করছি। এছাড়াও আমাদের কলোনির পুকুরে যতবার মাছ ছেড়েছি ততবারই সব মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলে। যাতে আমরা কলোনির মানুষ পুকুরে মাছ ছাড়তে না পারি। বাসার সামনে সবজি লাগালেও নিষেধ করে। গাছের নারিকেল পারতে নিষেধ করে। কোয়াটারের বিভিন্ন বাসার দরজা জানালা ও রড চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাদের এখানে বসবাস করা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছ। তাদের অত্যাচারে এলাকার মানুষও অতিষ্ঠ। সরকারি জামি দখলের বিষয়ে কাউন্সিলর আনিস কোরাইশীর ছেলে হাসির কোরাইশীর নামে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগে স্থানীয় ২০জন স্বাক্ষর করেছেন। কাউন্সিলর আনিস কোরাইশী বলেন, ওখানে বহুদিন ধরে চাষ হয়। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, কর্মচারীরাই ওখানে বহুদিন চাকরি না করে দখল করে রয়েছে। আপনার বাসার সাথে সরকারি ওয়ালে একটি গেট করা হয়েছে। গেটটি সরকারিভাবে করেছে না আপনারা করেছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ওখানে যাতায়াজাত বা ভোগ দখলের কোন বিষয় নেই। ওরকম আরেকটিও গেট পশ্চিম দিকেও রয়েছে। আপনার বাড়ির ভিতরে গেট তো বাইরে থেকে কারো এসে করার কথা নয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন আমি একটি সালিশে রয়েছি, পরে কথা বলব। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন (বিটিসিএল) কুষ্টিয়ার উপ মহাব্যবস্থাপক নারায়ন চন্দ্র ঘরামী বলেন, থানাতে অভিযোগ দিয়েছিলাম। আজ আমরা সেখানে বসেছিলাম। কাউন্সিলর এগুলো অস্বীকার করেছে। পুলিশ বলেছে আমরা সেখানে গিয়ে তদন্ত করে দেখব। তিনি আরো বলেন, তারপরও যদি কাজ না হয়, তাহলে আমরা আইনগতভাবে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাই নেয়া হবে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিটিসিএল এবিষয়ে আমাদেরকে কিছু জানায়নি। আর সাধারণ মানুষের আবেদন বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাল সকালে অফিসে গিয়ে জানাতে পারবো।
