কুষ্টিয়ায় ওজনে অনিয়ম করায় দুই রাইস মিলকে জরিমানা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় ওজনে অনিয়ম করায় দুই রাইস মিলকে জরিমানা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৪, ২০২৪

দেশের বৃহত্তম সরু চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজা নগরের বেশ কয়েকটি চালকলে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ওজনে জালিয়াতি ও অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দুটি অটো রাইস মিলের মালিককে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশ এগ্রোর মালিক আবদুল খালেককে ২৫ হাজার ও গোল্ডেন রাইচ মিল মালিক আনিসুজ্জামানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়ায় ওজনে অনিয়ম করায় দুই রাইস মিলকে জরিমানা

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি চালকলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল। জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, গত রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চালকল মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছি। দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না তা সরেজমিনে যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় দুটি কলে প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে ওজনে কম পাওয়া গেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বলেন, প্যাকেজিংয়ে অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দেশ এগ্রোর মালিককে ২৫ হাজার ও গোল্ডেন রাইচ মিল মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা, পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পার্থ প্রতিম শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু রাসেল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোহেল রানা প্রমুখ।উল্লেখ্য গত রবিবার (২১ জানুয়ারী) বিকেল ৪ টায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজা কুষ্টিয়ার মোকামে চালের দাম নির্ধারণের জন্য সবার মতামত চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন বলেন, হঠাৎ দাম বাড়ার আগে খাজানগর মোকামে মিলগেটে মিনিকেটের দাম ছিল ৬০ টাকা কেজি। তিনি সেই দাম বলবৎ রাখার প্রস্তাব করেন। তবে এর বিরোধিতা করেন চালকলমালিকেরা। পরে জেলা প্রশাসক মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেটের দাম ৬২ টাকা এবং খুচরায় ৬৪ টাকা নির্ধারণ করেন। তবে এতেও রাজি হননি চালকলমালিকেরা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ৬২ টাকার কমে মিনিকেট চাল সরবরাহ করতে পারবেন না তাঁরা। সভায় মিলমালিকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, বাজারে ধানের দাম চড়া হাওয়ায় চালের দাম বেড়ে গেছে। আবার কেউ কেউ পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দেন। সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিলমালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেছিলেন, কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামের কোনো চালকলমালিক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নয়। উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে নওগাঁর কিছু চালকলমালিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, নানা অজুহাতে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছিল ৩ টাকা পর্যন্ত। মাত্র দুই মাস পর কয়েক দিন ধরে খুচরা বাজারে আবারও সব ধরনের চাল কেজিতে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।