বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ইসলাম ধর্ম নিয়ে রসিকতা, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের এমপি প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় শহরের থানা মোড়ে ‘কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও সচেতন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে রসিকতা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামি বক্তারা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
এসময় মানববন্ধনে কুষ্টিয়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কোকোর নাম বিকৃত করে আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যের ২৪ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হলে তা ফেসবুকে টক অফ দা টাউনে পরিণত হয়। কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রত্যাহার করে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে আমির হামজাকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর প্রতিবাদ জানান। গত শুক্রবার রাতেই লিখিত প্রতিবাদে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটা ইতর প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এমন অশালীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামি বক্তার কাছ থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না। আমির হামজার বক্তব্য উসকানি ও চক্রান্তমূলক দাবি করে তা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন। তবে আমির হামজার ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর নেটিজেনদের কমেন্টে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। একটি আইডি থেকে লেখা হয় ‘সারা জীবন তুমি ভুল করো আর ক্ষমা চাও! জীবনে মানুষ তওবা কয়বার করে?’ জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
