কুষ্টিয়ায় অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে গাছ কাটার পাঁয়তারা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে গাছ কাটার পাঁয়তারা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধিঃকুষ্টিয়াসহ সারা দেশে তীব্র দাবদাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো যখন বৃক্ষরোপনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঠিক সেসময়ে নিজ সৃষ্ট কারণ দেখিয়ে বৃক্ষনিধনে মত্ত কুষ্টিয়ার সামাজিক বন বিভাগ।

খোদ সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি জেলার সদর উপজেলার জগতি সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে চারা উত্তোলনের বিঘ্ন ঘটার অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বড় বড় গাছ কাটার পাঁয়তারা শুরু করেছে। সরকার গাছ কাটা বন্ধে গেজেট জারি করলেও সেটাও মানছেন না কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

১৯ মার্চ ২০২৩ সালে সরকারিভাবে জারি করা সেই গেজেটে বলা হয়েছে, দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ করা হলো। এ সময়ে বনাঞ্চলের কোর-জোন রক্ষার্থে বাফার জোন এলাকায় স্থানীয় দরিদ্র জনগণের সম্পৃক্ততায় পরিচালিত অংশীদারিত্বভিত্তিক সামাজিক বনায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

কোন কিছুকেই তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারদের থেকে সুবিধা নিয়ে ১৫টি বড় গাছ নামমাত্র মূল্যে টেন্ডারের মাধ্যমে নিধনের মিশনে নেমেছে প্রতিষ্ঠানটি। পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার থেকে কুষ্টিয়ায় তাপমাত্রা যেমন বেড়েছে তেমনি কুষ্টিয়ার সামাজিক বন বিভাগ পাল্লা দিয়ে গাছ উজাড় করার মিশনে নেমেছে। বিভিন্ন পন্থায় কারণে-অকারণে বন উজার করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। চলতি বছর কুষ্টিয়াতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে সবুজ সুন্দর পৃথিবী নামের একটি সামাজিক সংগঠন এবারের বর্ষাজুড়ে কুষ্টিয়ায় বৃক্ষরোপণ উৎসব শুরু করেছে। গত ৪ জুলাই কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা সংগঠনের লোগো উন্মোচন করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সংগঠন গাছ লাগানো উৎসবে যুক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করছে। গত ৬ জুলাই এই সংগঠনের উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ উৎসবে যোগ দেয় বাশার ক্রিকেট কেয়ার একাডেমি।

কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে ১ হাজার ৮’শ গাছের চারা বিতরণের মধ্যদিয়ে তারা এ আয়োজনে যোগ দেন। বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের পহেলা মে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই বছরের ২৫শে এপ্রিল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, এই দুটি শীর্ষ তাপমাত্রা পাওয়া গিয়েছিল চুয়াডাঙ্গাতে। এর আগে ১৯৮৯ সালেও একবার ৪৩ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল জেলাটির তাপমাত্রা। ওই বছরের ৪ঠা মে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় বলেও জানিয়েছিলেন মি. মল্লিক ।

২৯ বছর পর চলতি বছর পুনরায় অধিক তাপমাত্রায় পুড়ছে দেশ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবছর ৩০ এপ্রিল যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই দিনে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। একসময়ের বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত ছিল চুয়াডাঙ্গা। পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আলাদা জেলায় রূপান্তর করা হয়। তীব্র দাবদাহের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়ার তাপমাত্রার চিত্র প্রায় কাছাকাছি। এসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলাগুলোর মানুষ সবথেকে বেশি তাপমাত্রায় পুড়েছে। যে জনগণের জন্য দেশের আইন অবকাঠামো সেই জনগণের কথা চিন্তা না করে এসি রুমে বসে গাছ কাটার টেন্ডারসহ বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন কুষ্টিয়ার সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ গৌতম কুমার রায় জানান, পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যত্রতত্র গাছ কাটা জনজীবনসহ পরিবেশের জন্য চরম হুমকি। দেশের ভৌগোলিক সীমানার ২৫ ভাগ বনভূমির প্রয়োজন হলেও আমাদের রয়েছে মাত্র ৯ ভাগেরও কম। গাছ আমাদের ছায়া-অক্সিজেন দানসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা দেয়। ফলে নির্বিচারে গাছ কর্তনে সামাজিক বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে।