কুষ্টিয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় জাতির পিতার ম্যুরাল - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় জাতির পিতার ম্যুরাল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ২৩, ২০২৩
কুষ্টিয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় জাতির পিতার ম্যুরাল

কুষ্টিয়া শহরের প্রবেশের প্রধান রাস্তা হলো মজমপুর। সেই সাথে কুষ্টিয়ার সাথে অনান্য জেলার যোগাযোগের প্রধান স্থান। মজমপুর থেকে পুলিশ লাইনের দিকে যাওয়ার পথে হাতের ডান পাশে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি দৃষ্টি নন্দন ম্যুরাল।

কুষ্টিয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় জাতির পিতার ম্যুরাল

কুষ্টিয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় জাতির পিতার ম্যুরাল

কুষ্টিয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় জাতির পিতার ম্যুরাল

ম্যূরালটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৩৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নির্মান করা হয়। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসানের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে ১৮ নভেম্বর ২০১২ সালে ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিটের কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট ম্যুরাল বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হলেন, তৎকালীন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আ. স. ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক মীর জাহিদুল ইসলাম (সকলের পদ এবং পদবী ম্যুরালে দেওয়া তথ্য মতে)।

এছাড়াও কারিগরী সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ম্যুরালের চার পাশে বেষ্টনী থাকলেও বেষ্টনীর গেট খোলা থাকার কারণে প্রায় সবসময়ই শহরের উদ্বাস্ত লোকজন এসে ম্যুরালের পাদদেশে ঘুমায়। এছাড়াও সাধারণ পথচারীরা ম্যুরালে পাশের ফাঁকা স্থানে প্রসাব করে। প্রতিদিন অন্তত কয়েকশত লোক বঙ্গবন্ধুর এই ম্যুরালের সন্নিকটে এবং আশে পাশে প্রসাব করে। এই বিষয়ে ঐ এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তারা জানান, অত্র এলাকা থেকে আন্তঃজেলার বাস গুলো ছেড়ে যায়। যার ফলে এখানে দিনের কয়েক হাজার যাত্রী এখানে আসে। এছাড়াও এদিক দিয়ে অনেক মানুষ যাওয়া আসা করে। আশে পাশে কোন গণ শৌচাগার না থাকার কারণে মানুষ এখানে ফাঁকা জায়গা পেয়ে প্রসাব করে।

এছাড়াও কেউ কোনদিন ম্যুরালটির রক্ষাণাবেক্ষন করে না। যার ফলে অবহেলা এবং অযত্নে ম্যুরালটির এই অবস্থা। এই বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জাতির জনকের মুর‌্যাল এ এটা কাম্য নয়। আমি মনে করি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের উচিৎ এটাকে সন্মান প্রদর্শন করা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যুরাল নির্মাণকারীর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আ. স. ম আক্তারুজ্জামান মাসুম বলেন, ফোর লেন রাস্তার কারণে এইটা অপসারণ করার কথা হয়েছিলো। জানিনা অপসারণের বিষয়টি এখন কোন পর্যায়ে আছে। বিষয়টা নিয়ে আমি জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলবো।

এই বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পার্থ প্রতীম শীল’র মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।