মোশারফ হোসেন ॥ সনাতন ধর্মাম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। আসন্ন পূজাকে ঘিরে কুষ্টিয়া ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। খড়, কাঠ, সুতা আর মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি করেছেন প্রতিমা। জেলায় ২২৭ টি মন্দিরে এবার দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কুমারখালীতে ৫৪, খোকসা ৬০, মিরপুর ২৬, ভেড়ামারা ৮, দৌলতপুর ৭ কুষ্টিয়া সদরে ৭২ টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে জেলার বেশির ভাগ প্রতিমা তৈরির অবকাঠামো ও রংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে।
এখন দেবী দূর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে দিনরাত রং-তুলির কাজ করে যাচ্ছেন শিল্পীরা। এবার শহরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা কম থাকলেও আয়োজনের কোনো কমতি নেই। জেলার ৫ টি উপজেলার প্রায় ২২৭ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট জয়দেব কুমার বিশ্বাস। তিনি আরো বলেন, এবার জেলায় ২৯ টা মন্দিরে দুর্গা পূজা হচ্ছে না। গতবার জেলায় ২৫৬ টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য বজায় রেখে আরতী, ঢাক-ডোল বাজিয়ে পূজা উদযাপিত হবে। মণ্ডপের নিরাপত্তা আমাদের নিজেদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন বাহিনী, রাজনৈতিক বিভিন্ন দল ও ছাত্র সমাজ নিশ্চিত করবে বলে আশা করছি। সরেজমিনে দেখা যায়, কুমারখালী শহরের শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজে সহায়তা করছে গৃহবধূ, বাদ পড়েনি শিশুরাও। কেউ কেউ খড়, কাঠ, সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন কেউবা নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী অনিন্দ্য সুন্দর রূপ।
প্রতিমার কাঠামো তৈরি শেষে এখন চলছে রং তুলির কাজ। রং তুলিতে সাজানো হচ্ছে প্রতিমার অপরূপ সৌন্দর্য। তবে দেবী দুর্গাকে নানা রঙে রাঙালেও প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিমা কারিগররা। সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে ষষ্ঠী তিথির আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে হবে শিল্পীদের। চলতি মাসের ৯ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠ্যাদী কল্পরম্ভ বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস হবে দেবী দূর্গার।
পরদিন সপ্তমী তিথিতে সপ্তমী বিহিত পূজা, এরপর পালাক্রমে অষ্টমী, সন্ধী পূজা, নবমী পূজার পরে দশমী শেষে প্রতিমার দর্পণ বিজর্সনের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর শেষ হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন পুজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। উপজেলার রক্ষা কালী মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কারিগর বলেন, সুকুমার বিশ্বাস বলেন, বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায় ৪২ বছর যাবত এই পেশায় জড়িত রয়েছি। প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম ও চাহিদা বাড়লেও বাড়েনি দাম। তবে চলতি বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি।
প্রতিমা শিল্পী নির্মল বিশ্বাস বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, খড় ও সুতলি-রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো প্রতিমা তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার পূজা মণ্ডপের সংখ্যাও কমে যাওয়ায় প্রতিমা বিক্রিও কমে গেছে। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, পূজা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপন করা যায় সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপসমূহে আমাদের ফোর্স থাকবে। অন্যান্য মণ্ডপসমূহে আমাদের টহল টিম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
