কুষ্টিয়াতে অবৈধ ইটভাটা চলছে ধুমিয়ে আর প্রশাসন আছে ঘুমিয়ে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়াতে অবৈধ ইটভাটা চলছে ধুমিয়ে আর প্রশাসন আছে ঘুমিয়ে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৩, ২০২৪

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে বাংলাদেশ জুড়ে মোট ৭ হাজার ৮’শ অধিক ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে অবৈধ ইটভাটা রয়েছে ৫ হাজারের উপরে। সারা বাংলাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে অধিকাংশ  ইটভাটা। অধিকাংশ ভাটা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়াতে অবৈধ ইটভাটা চলছে ধুমিয়ে আর প্রশাসন আছে ঘুমিয়ে

কুষ্টিয়া জেলায় মোট ২০০টি উপরে ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ২২টি ইট ভাটার বিপরীতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে ১৭৮টি উপর ইটভাটা। আর এইসব ইটভাটায় অধিকাংশ প্রকাশ্যে কয়লার বদলে পুড়াচ্ছে কাঠ। অবৈধ ইটভাটায় কৃষিজমি ও নদীর তীরের মাটি নিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভাটার আশপাশের ফসল ও ফসলি জমি হুমকিতে পড়েছে। এছাড়াও অবাধে অবৈধ যান চলাচলে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়াও ড্রাম চিমান ও ফিক্সড চিমনি ইটভাটাগুলি এখনো চালু রয়েছে। যদিও ২০১৩ সন এবং ২০১৯ সনের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন আইনে ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনির ইটভাটা বন্ধ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও লোকালয় হতে ১কিঃ মিঃ দূরে ভাটা স্থাপনের বিধান রয়েছে। এই আইনে ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। আইন অমান্য করে যারা অবৈধ ভাটা নির্মাণ এবং কাঠ পোড়াবেন তাঁদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি জমি ব্যবহার না করে মজা পুকুর, খাল, বিল, ঘাড়ি, দীঘি, নদী, হাওড়, বাওড়, চরাঞ্চল ও পতিত জায়গা হতে মাটি সংগ্রহ করার কথা বলা আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসন হতে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবুও কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অধিকাংশ ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন তারা। ইটভাটা সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ বলেন, এখন ইট পোড়ানোর সিজন চলছে। এই সময় বেশিরভাগ ভাটা গুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দিনে দুপুরে লোক চক্ষুর সামনেই চলছে এইসব অবৈধ ইটভাটা গুলো। নামমাত্র দু-একটি কয়লার ভাটা থাকলেও বাকিসব চলে গাছ পুড়িয়ে এবং  কাটা হয় ফসলী মাটি। কোনো কোনো ভাটার মালিক কয়লার ভাটা বন্ধ রেখে লাগামহীন ভাবে গাছ পুড়িয়ে চালাচ্ছে। ইটের ভাটাতেই বসানো হয়েছে কাঠ কাটার কল। এতে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। তারা আরো বলেন প্রতিবছরে লোক দেখানো হলেও কিছু অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু এবছর একদমই কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি। দেখে মনে হচ্ছে একদম ঠান্ডা নিরিবিলি পরিবেশে এরা ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের ধারণা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে  চলছে অবৈধ এসব ইট ভাটা। এসব অবৈধ ইটভাটা গুলো আইন অমান্য করে চলছে দিনের পর দিন। কিন্তু  নিরব ভূমিকায় প্রশাসন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা আরো জানান, প্রশাসন তেমন কোনো উদ্যোগ আমি কখনো দেখিনি। এই মুহূর্তে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে এখনই বন্ধ করা সম্ভব। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে অবৈধ ইট ভাটা । তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে দেখি নাই। প্রভাবশালীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে এবং সুসম্পর্কের মাধ্যমে এগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন ইট ভাটার মালিক ফজলুর রহমান স্বাধীন বলেন, যদি ইটভাটা অবৈধ  হয় তাহলে আমরা সরকারকে কেন ভ্যাট ট্যাক্স দিচ্ছি আমরা প্রতিবছর সরকারকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা ভ্যাট দেই। আমি মনে করি যদি ভ্যাট নেয় তাহলে এটা বৈধ। ফাইভ স্টার ইটভাটা মালিক আকরাম হোসেন জানান, আগে ঝামেলা করত কিন্তু এখন সমিতি সেটা ম্যানেজ করে চলে। পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক হাবিবুর বাশার বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন  কর্মকর্তা, ডিসি মহোদয়ের সাথে আমরা কথা বলেছি। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবো।