কুমারখালী খোকসার মানুষ এইবার তাদের জনরায়ে নৌকাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবে - সেলিম আলতাফ জর্জ
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (সংসদীয় আসন-৭৮) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ। গত বৃহঃবার (২১ ডিসেম্বর) তিনি কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ শেষে সন্ধায় বাঁধবাজার এলাকায় নির্বাচনী পথ সভায় উপস্থিত নেতা কর্মি ও জনতার উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে ৪ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

কুমারখালী খোকসার মানুষ এইবার তাদের জনরায়ে নৌকাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবে – সেলিম আলতাফ জর্জ
ঐ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি কুমারখালী খোকসার মানুষ এইবার তাদের জন রায়ে নৌকাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। যদিও উপস্থিত নেতা কর্মি ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারার সাথে সাথে তিনি তার বক্তব্য সংশোধন করে নৌকাকে বিজয়ী করার কথা বলেন। তারপরও তার এই বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। ইতিপূর্বেও তিনি বেফাস মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন। ২১ শে আগষ্ট নিয়ে জনৈক সাংবাদিককে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তার অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য ভাইরাল হয়।
বক্তব্য প্রদানকালে সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে আমরা কিছু জায়গায় পৌঁছাতে পারি নাই। এই গণ সংযোগের মদ্য দিয়ে আমি আপনাদেরকে একটা বিষয়ে আগাম বার্তা দিয়ে যাচ্ছি, ইতিপূর্বে যে বিজয় হয়েছিলো এই বার তার থেকে অন্তত দুইগুণ বেশী রেজাল্ট হবে। নৌকার পক্ষে চাপড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সমস্ত নেতা কর্মি, আপামর জনসাধারণ ইতিপূর্বে বাংলাদেশে অসম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে, উন্নয়ন সমৃদ্ধির পক্ষে, মানুষের ব্যক্তি গৃহস্থালির যে সমস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করে চলেছেন সেই সমস্ত পরিকল্পনা আরো অধিকতর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নৌকা মার্কাকে ভোট দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।
এই দেশে শেখ হাসিনার বিকল্প এক মাত্র শেখ হাসিনা, এদেশে নৌকার বিকল্প একমাত্র নৌকা। যদি কোন বিভ্রান্তির পরিস্থিতি কোন ব্যক্তি বা কোন গোষ্ঠী ঘটানোর চেষ্টা করে আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা তাদেরকে প্রত্যাখান করবেন। কেননা এই সমস্ত ব্যক্তিগণ ঘুরে ফিরে এই দলকে ব্যবহার করে ফুলে ফেঁপে উঠে পরিপুষ্ট হয়েছেন। এদের ধৃষ্ঠতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, এরা মনে করে এই মুক্তিযোদ্ধার, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল, তারা মনে করে এই প্রতিষ্ঠানের থেকে ব্যক্তি হিসাবে তারা অনেক বড় হয়ে গেছে। এইবার সেই জবাব দেওয়ার সময় এসেছে এই অঞ্চলের মানুষের ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মির। এই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ।
এই প্রতিষ্ঠানের এত নেতা কর্মি, তাদের চেয়ে কোন ব্যক্তি কখনও বড় হতে পারে না, কোনদিন হয়নি, আগামীতেও হবে না। আমি আগাম বার্তা দিয়ে গেলাম, কুমারখালী খোকসার মানুষ এইবার তাদের জনরায়ে নৌকাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবে। নৌকাকে যে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। এতে করে এই সমস্ত নেত্রীগণ তারা বারবার নৌকার নামে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ইতিপূবে যেভাবে পরাজয় বরণ করেছেন, আগামী নির্বাচনে তার থেকে অধিকতর লজ্জাজনক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে তাদের রাজনীতির কবর রচিত হবে এবং যারা এই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত লোকের সাথে নিজেরা নিজেদের সমপৃক্ত করেছেন তাদের প্রতি আমার আহ্বান, এখনও সময় আছে আপনারা ঐ সমস্ত পথ পরিহার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য নৌকার পক্ষে আসেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকালকে নৌকার আনুষ্ঠানিক প্রচারণার মধ্য দিয়ে সমস্ত বাংলাদেশর মানুষকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও তিনি, কুমারখালী খোকসা তথা কুষ্টিয়া অঞ্চলের সমস্ত মানুষকে নৌকায় ভোট দিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়ন-সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত গতিশীল করার আহ্বান করেন।
উক্ত পথ সভায় উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজেরে সাবেক জিএস, কুষ্টিয়ার ঢাকাস্থ সমিতির সন্মানীত মহাসচিব যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু, চাপড়া ইউনিয়নের জর্জের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মুসা, কুমারখালী উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ইমরুল হক লিংকন, চাপড়ার ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আ.লীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ (কটা) এবং ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো.খোকন শেখ সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেন প্রমুখ।
