কুমারখালীর সেই সড়কের গাছকাটা বন্ধ করল এমপি রউফ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর সেই সড়কের গাছকাটা বন্ধ করল এমপি রউফ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৬, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন লাহিনীপাড়া-সান্দিয়ারা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের প্রায় তিন হাজার গাছের দরপত্র স্থগিত করে কাটা বন্ধ ঘোষণা করলেন স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি গাছের চারা রোপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এতথ্য জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন, তীব তাপদাহ চলছে। নদী-নালা শুকিয়ে গেছে। টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। সেই মুহুর্তে গাছ কাটার প্রশ্নই উঠেনা। তিনি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করে গাছ কাটা বন্ধ করেছেন। এবং গাছ কাটার পরিবর্তে কুমারখালী-খোকসা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অধিক পরিমানে গাছ লাগানো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. আকুল উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদ আল মামুনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, উপজেলার সান্দিয়ারা – লাহিনীপাড়া পাউবোর জিকে খাল ঘেঁষে প্রায় ২০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। সড়কে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১০ বছর পূর্বে কয়েক হাজার ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করেছিল উপজেলা বনবিভাগ। দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৩ সালে যদুবয়রা থেকে সান্দিয়ারা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। চলতি বছরেও ওই সড়কের লাহিনীপাড়া থেকে বাঁধবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। আরো জানা গেছে, সম্প্রতি বাঁধবাজার থেকে মাদুলিয়া পর্যন্ত আরো তিন কিলোমিটার সড়কের কয়েক হাজার গাছ কাটার জন্য গাছের গাঁয়ে নাম্বারিং করে দরপত্র সম্পন্ন করেছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফুঁসে উঠে বিভিন্ন সচেতন মহল। সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠে। সেজন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে গাছ কাটার দরপত্র স্থগিত ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। উপজেলা বনবিভাগ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, আর্থ – সামাজিক ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৪ সাল থেকে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বনবিভাগ। তারা প্রথমে স্থানীয়দের নিয়ে এলাকা ভিত্তিক সমিতি গঠন করে। পরে বিভিন্ন সড়কের ধারে জ্বালানি কাঠের গাছের চারা রোপন করেন। গাছ দেখাশোনা করে সমিতির সদস্যরা। গাছের বয়স যখন ১০ বছর পূর্ণ হয়। তখন গাছ কাটা ও বিক্রির জন্য দরপত্র আহবান করে বনবিভাগ। গাছ বিক্রির ৫৫ ভাগ টাকা পাই সমিতির সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ পাই ৫ ভাগ। আর বনবিভাগ ও সড়ক সংশ্লিষ্ট বিভাগ পাই ২০ ভাগ করে টাকা। চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক মঞ্জু জানার, সড়কের সুন্দর্য বৃদ্ধি, ছায়া ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে গাছ গুলো থাকা দরকর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, পরিবেশের কথা চিন্তা করে এমপি স্যার ও ডিসি স্যারের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য গাছকাটা বন্ধ করা হয়েছে।