কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দারসহ তার পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী স্ত্রী মুক্তি সরকার (৩৫) বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আশাশুনি থানায় মামলাটি করেন। বিজয় কুমার জোয়ার্দার এর আগে কুমারখালীর এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন-আশাশুনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার (৩৭), ফাগুনী সুমি কাসারী (২৫), উষা রাণী জোয়ার্দার (৬৫), পরিমল কুমার জোয়ার্দার (৭০) ও পরিতোষ কুমার জোয়ার্দার (৩২)।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে আদালতের মাধ্যমে ও ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে হিন্দু রীতিনীতি অনুযায়ী বিজয় কুমার জোয়ার্দারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই বিজয়ের আবদার অনুযায়ী বিভিন্ন আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার উপঢৌকন দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি নিজ গ্রামে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য বিজয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মুক্তির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। মুক্তি সরকার আরও অভিযোগ করেন, অতীতে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই যান। ভারত থেকে ফিরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আশাশুনিতে এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে অবস্থানকালে আবারও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে বেধড়ক মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া এজাহারে ২নং আসামির সঙ্গে বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়েও অভিযোগ আনা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এ বিষয়ে কথা বলতে আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
