কুমারখালীর পদ্মানদীতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর পদ্মানদীতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৩

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌ পুলিশের সহায়তায় কুষ্টিয়া কুমারখালী পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে রাত দিন ধরে। বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাসেল এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকার রাসেল আহমেদ।

কুমারখালীর পদ্মানদীতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ

কুমারখালীর পদ্মানদীতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ

কুমারখালীর পদ্মানদীতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ

জানা যায়, উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে নৌ পুলিশের পাহাড়ায় কুমারখালী উপজেলার কয়া, শিলাইদহ ও আশপাশের এলাকার পদ্মানদী থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোরব) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহমেদ। তিনি নাটোর লালপুরের বালুবহলের স্বত্ত্বাধিকার। দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় বালু ভর্তি বলগেটের ওপর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, আমি গত পহেলা বৈশাখে আমার রাসেল এন্টারপ্রাইজ নামে নাটোর লালপুরের বালুমহলটি ইজারা নিয়েছি প্রায় ১৪ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকায় এক বছরের জন্য নাটোর জেলা প্রসাশক হতে।

কিন্তু রাজবাড়ীঘাট থেকে আসা বালুবহনকারী সকল নৌকা ও বলগেট কুমারখালী ও হরিপুর চরে পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের পাহারায় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিনি লক্ষ -লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করে স্বল্প মূল্যে করে আসছে। তাতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং আমার বৈধ  বালি ঘাটে কোন নৌকা বলগেট যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে আমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুফল পাচ্ছিনা। আমি দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলনের বন্ধের দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, গত ২৯/০৫/২০২৩ইং সালে মহামান্ন হাই কোর্ট একটি আদেশে সু-স্পষ্ট ভাবে বলেছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পাবনার রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পাকশী হাডিং ব্রিজ পর্যন্ত পদ্মার তল দেশ হইতে কোথাও কোন বালি উত্তোলন করা যাবে না। এবং পাবনা, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলা প্রসাশক কোথায় কোন ইজারাও বালু উত্তোলনের মৌখিক অনুমোদন দিতে পারিবে না। একই সঙ্গে ১৪ ইং এপ্রিল থেকে এসব এলাকাথেকে বালু উত্তোলন বন্ধের ও নির্দেশ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় মহামান্ন হাইকোর্টের দিয়া ৭০৩০/২০২২ একটি মামলার রিটে এই এলাকা গুলো বালু উত্তোলন বা ইজারা বন্ধ থাকিবে। সেজন্য রাসেল আহমেদ সরকারকে দ্বিগুণ মূল্যে টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিয়েছেন।

কুমারখালীর পদ্মানদীতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ
আমি জানচ্ছিলাম যে এই অঞ্চলে কোথায় কোন বালুমহন ইজরা দেওয়া হবে না। যেহেতু মহামান্ন হাইকোর্ট রায়ে বলা হয়েছে গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পাবনার পাকশী পর্যন্ত ইজরা দেওয়া হবেন বা কোথায় কোন বালু উত্তোলন করা যাবে না। তাই আমি দ্বিগুন টাকা দিয়ে
বালুমহনটি ইজারা নিয়েছিলাম কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলন করার ফলে আমি এখন অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখে হতে চলেছি। তাই আপনাদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।  এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ বলছি অবৈধ বালিরা ঘাট বন্ধ করা হোক।

সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সরকারের অনেক প্রত্যাশিত রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মারাত্মক ভাবে ঝুকির সম্মুখিন হতে চলেছে এর সাথে সাথে দীর্ঘদিনের পুরাতন পাকশী হার্ডিব্রিজটি পিলারের মাটি সরে গিয়ে সেটাও হুমকির সম্মুখিন হয়ে দাড়িয়েছে। এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  কুঠিবাড়িটি নদীগর্ভে  বিলীন হয়ে সম্ভাবনার  আশঙ্কা আছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ঈশ্বর্দীর লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশের পরিদর্শক ইমদাদুল হক ফোনে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা নিয়মিত নদীতে টহল দিচ্ছেন। বালু উত্তোলনকারীরা বৈধ কাগজপত্রাদি দেখিয়ে বালু তুলছেন। কাগজপত্রাদি কুমারখালী এসিল্যান্ড অফিসে আছে। সেখানে কথা বলেন।

কুমারখালী সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, নদীতে বালু উত্তোলনে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্রাদি নেই। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।