কুমারখালীর জনি ও জাহাঙ্গীরের রমরমা মাদক বাণিজ্য - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর জনি ও জাহাঙ্গীরের রমরমা মাদক বাণিজ্য

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৪

কনক হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় কয়া ইউনিয়নের চর বানিয়াপাড়া গ্রামের একো মোল্লার ছেলে জনি ও জাহাঙ্গীরের চলছে দেদারসে মাদক ব্যবসা। তথ্য অনুসন্ধানে জানাযায় জনি জাহাঙ্গীর আপন দুই ভাই মিলে গড়ে তুলেছে মাদকের সম্রাজ্ঞো কোন মতেই থামছে না তাদের মাদক ব্যবসা।

কয়া ইউনিয়নে পরিণত হয়েছে মাদকের অভয়ারণ্য। গোপন তথ্য মাধ্যমে জানা যায় জনি ও জাহাঙ্গীর পাইকারি হিসেবে মাদকের পণ্য ক্রয় করে, মাদকের মহাজন শরিফুলের কাছে থেকে। জনি ও জাহাঙ্গীরের প্রধান ব্যবসা টেপেন্ডা টল ট্যাবলেটের। পূর্বের ইয়াবা খোর ও ব্যবসায়ীদের কাছে কালের পরিবর্তনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ট্যাপেন্ডা টল ট্যাবলেট। ট্যাপেন্ডা ট্যাবলেট একটি ব্যথা নাশক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ। মাদক সেবীরা নতুন করে এই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যথা নাশক ওষুধটি ইয়াবা ট্যাবলেটের পরিবর্তে বিকল্প মাদক হিসাবে গ্রহণ করেছে।

এতে খরচ অনেকটা কমে গেছে নেশার ক্ষমতাও অনেকটা বেড়ে গেছে। এই ট্যাবলেটটি জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এবং নির্দেশনায় ট্যাবলেটটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাতেও যেন কোন সুরোহা হয়নি। দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে এই মাদকের বাজার। হ্যাঁ কিন্তু কিভাবে? ভারত থেকে চোরাই পথে পানিপথে বর্ডার ক্রস করে আসে টাপাল ১০০ মিলিগ্রাম ও টাইডল ১০০ মিলিগ্রাম নামের ব্যথা নাশক ট্যাবলেট। মাদক সেবীরা ইয়াবার পরিবর্তে নেশার জন্য ব্যবহার করছে ব্যাথা নাশক এসব ট্যাবলেট। ইয়াবার সঙ্গে মিল থাকার কারণে, সেবনকারীরা ট্যাপেন্ডা ট্যাবলেটের প্রতি ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ব্যাথা নাশক এসব ট্যাবলেট নেশা হিসেবে ব্যবহার করলে একটা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে নিয়ে আসতে পারে। ভয়াবহ মরণব্যাধি এই ট্যাবলেট বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সয়লাব হয়ে গেছে। এই মরণব্যাধি ট্যাপেন্ডার অন্যতম বিক্রেতা, কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট মাদক উদ্যোক্তা জনী ও জাহাঙ্গীর। সারাদিন চলে তাদের খুচরা ব্যবসা সন্ধ্যার পর থেকে চলে পাইকারি ব্যবসা। জনসম্মুখে খোলামেলাভাবেই বিক্রি করছে এই মাদক, দেখেও যেন দেখার কেউ নেই! তাহলে খুঁটির জোর কোথায়? এমনটি প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর মনে। কুমারখালী থানা যেন ঘুমন্ত অবস্থায় ভুল করেও চোখ পড়ে না তাদের দিকে।

এদিকে এত খোলামেলা মাদক ব্যবসা পরিচালনার ফলে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে বাড়ছে মাদক ব্যবসার প্রবণতা আর অন্যদিকে শিশু কিশোর ও যুবক শ্রেণী জডড়য়ে পড়ছে মাদকের সঙ্গে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছেড়ে হয়ে যাচ্ছে মাদকাসক্ত। ওই এলাকার জনজীবন ধ্বংসের মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একজন বাসিন্দা জানায়, যে তাদের সঙ্গে প্রশাসনের কঠিন যোগ সাজস রয়েছে। শরিফুল প্রশাসনের সোর্স হিসাবেও কাজ করে। এলাকার ওই বাসিন্দা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে থেকে শরিফুল মাদক ক্রয় করে ওই মাদক পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি বিক্রি করে। বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ী শরিফুল এর কাছে থেকে মাদক ক্রয় করে কিশোর যুবকদের কাছে বিক্রি করেন। স্থানীয় এলাকাবাসী আরো জানান শরিফুল ছাড়া অন্য কারো কাছে থেকে মাদক ক্রয় করে বিক্রি করলে তাদেরকে প্রশাসনের লোক ধরে জেল জরিমানা করেন। কিন্তু মহাজন শরিফুলদের কাছ থেকে মাদক নিলে তাদেরকে প্রশাসন কোন প্রকারের ঝামেলা করেন না। সেজন্যই জনি ও জাহাঙ্গীর শরিফুলের কাছ থেকে মাদক ক্রয় করে সাপ্লাই করে থাকেন। যেন তাদের কোন প্রশাসনিক ঝামেলা না হয়।

বিষয়টি নিয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আকিবুল ইসলাম জানান আমরা এই বিষয়ে পরিপূর্ণ তৎপর আছি, সঠিক তথ্য পেলেই মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং চক্রকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয় নিয়ে কুষ্টিয়া মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল (ক) এর ইন্সপেক্টর বেলাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।