লোকসানে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

লোকসানে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৩
লোকসানে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা

কুষ্টিয়া কুমারখালীতে এই বছর আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় পিঁয়াজ চাষিরা দিশেহারা। এ উপজেলায় উৎপাদিত “শীতকালীন” পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটায়। তবে ভালো ফলন না হওয়া ও চাষি পর্যায়ে ভালো দাম না পাওয়ার কারণে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় ফসলটির আবাদ কমবে বলে জানান কুমারখালীর চাষিরা।

লোকসানে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা

লোকসানে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা

লোকসানে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার কুমারখালীতে লক্ষমাত্রা অর্জন হয়নি। অসময়ে বৃষ্টিপাত শৈত্যপ্রবাহ যার কারণে পিঁয়াজ ফলন আশানুরূপ হয়নি । উপজেলায় ৪৫ শ’ ১০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ আবাদ হয়েছে। লক্ষমাত্রার চাইতে ৭ শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে পিঁয়াজ চাষ।

উপজেলার চাষিদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন করতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম প্রকার ভেদে ৩ শ’ থেকে ৮ শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে খরচ ওঠানো দুরের কথা, পিঁয়াজ তোলার খরচ হবে না। কৃষকদের বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

শিকরামপুর গ্রামের চাষি আব্দুল মান্নান , এবার দেড় বিঘা জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ করেছেন।তিনি জানান, এ বছর পেঁয়াজের ফলন খুব কম । পিঁয়াজের বীজে ভেজাল, ঔষধে ভেজাল যার কারণে প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে গড়ে ১০ থেকে ১২ মণ করে। আর বর্তমান বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায়। প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লোকসান হবে।

পিঁয়াজ চাষিরা হাসান জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে জায়গার অভাব, শ্রমিকদের মজুরি এবং অভাব-অনটনে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি লোকসানের উল্লেখযোগ্য কারণ। এর মধ্যে এবার পিঁয়াজের যে অবস্থা তাতে করে কৃষকরা পিঁয়াজ চাষ করবে কি না এটা সন্দেহ আছে । পাশাপাশি পরবর্তী ফসল পাটের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজ কেনা, সেচ ও শ্রমিকের খরচ যোগাতে হয় পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে। এবার পিঁয়াজ চাষিরা দিশেহারা।

ভবানীপুর গ্রামের আততাব উদ্দিন জানান, “আমার তিন বিঘা জমির পেঁয়াজ উৎপাদনে মোট খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো। পেঁয়াজ লাগানোর পর থেকে শুরু করে সার, সেচ, আগাছা দমন এবং ক্ষেত থেকে তুলে বাড়িতে আনতে সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকার মতো লোকসান গুণতে হচ্ছে।”

যোতপাড়া গ্ৰামের মিজানুর রহমান বলেন, “একজন শ্রমিক নিলে তাকে দিতে হয় ৫০০ টাকা। তারপর দুপুর ও সকালের খাবার তো আছেই। প্রতিদিন একজন শ্রমিক মোট দেড় থেকে দুই মণ পেঁয়াজ তুলতে পারে। যার দাম ৮০০ টাকা। তাহলে আমরা কী করে বাঁচব?”।

ব্যবসায়ীরাও বলছেন লোকসানের কথা, কুমারখালী বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সামসুজ্জামান জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে পেঁয়াজের ব্যবসা করছেন। অনান্য জিনিসের তুলনায় পিঁয়াজের এত কম দাম কখনও দেখেননি। এই ব্যবসায়ী বলেন, “এত কম দাম থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

কুমারখালী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, কিছু প্রাকৃতিক কারণে রোপণ মৌসুমে অসময়ে বৃষ্টিপাত ও বিরুপ আবহাওয়ার কারণে ফলনে সমস্যা হয়েছে । এবার আমরা পুরো লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এবার লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৪৫ শ’ ১০ হেক্টর জমিতে । অর্থাৎ আমারা কিছু টা ঘাটতিতে আছি। আবহাওয়া কারণে কিছু চারা মারা গেছে যার কারণে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে । সেই সময় আমাদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার রা’ কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে মাঠে পিঁয়াজ উত্তোলন চলছে, যদিও এই মুহূর্তে বাজার মূল্য কম।