কুমারখালীর গুলিবিদ্ধ সেই যুবক এখনও হাসপাতালে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর গুলিবিদ্ধ সেই যুবক এখনও হাসপাতালে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বালুর ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তর হামলায় গুলিবিদ্ধ যুবক এখনও কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শরীরে অসংখ্য ছড়রা গুলি রয়েছে। পাঁয়ের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁর অস্ত্রোপচার করানোর জন্য স্বজনদের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ( আরএমও) হোসেন ইমাম। গুলিবিদ্ধ আকাশ হোসেন (৩০) কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের চর আগ্রাকুণ্ডা গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে। এঘটনায় শনিবার রাতে তাঁর মা আছমা খাতুন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মারধর ও হত্যা চেষ্টা আইনে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৫ থেকে ৭ জনকে। মামলায় তিনজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আসামিরা হলেন- উপজেলার সদকী ইউনিয়নের হিজলাকর এলাকার নিয়ামত আলীর ছেলে আশিক (২০) ও হিরু প্রামাণিকের ছেলে মানিক (২১)।

তারা বালুটানা ট্রাকের শ্রমিক। অপরজন ট্রাকচালক রাকিবুল ইসলাম (২১)। তিনি খোকসা উপজেলার আজাইল এলাকার মজনুর ছেলে। জানা যায়, ২২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে যদুবয়রা ইউনিয়নের হাঁসদিয়া এলাকার শ্রমিক দল নেতা মানিয়ার মোল্লার বাড়ির গেটে কয়েক রাউন্ড গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মানিয়ার মোল্লা যদুবয়রা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। এরপর রাত ১টার দিকে লালনবাজার এলাকায় বালুর ট্রাকে এসে আকাশের পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই রাতেই আশিক, মানিক ও রাকিবুলকে আটক করে পরদিন শুক্রবার ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছিল পুলিশ। ২০২৩ সালে এলংগী আচার্য মৌজায় গড়াই নদীর ড্রেজিং করা প্রায় ৭০ হাজার ঘনফুট বালুর ইজারা দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে টেন্ডারের মাধ্যমে বালু অপসারণের দায়িত্ব পায় কুষ্টিয়ার সৈকত এন্টারপ্রাইজ। সম্প্রতি তাদের কাছ থেকে শেয়ার নিয়ে বালু তুলছিলেন যদুবয়রা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মানিয়ার মোল্লা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহাবুবুল হাসান রনি, বিএনপি নেতা শামছুল আলম, রিপন প্রমূখ।

কিন্তু তারা কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় বালু অপসারণের কাজ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। জানা গেছে, সৈকত এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি করে গত বৃহস্পতিবার কিস্তির টাকা পরিশোধ করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ ও তাঁর সহযোগীরা। তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বালু অপসারণের কাজ শুরু করলে শ্রমিক দল নেতা মানিয়ার মোল্লাসহ তাঁর লোকজন পথে গাড়ি আটকে দেয়। আহত যুবক আকাশ বলেন, সেদিন বালুর গাড়ি বন্ধ করে দিছিল ওরা (মানিয়াররা)। আর রাতে আমরা কয়েকজন বাজারে চা খেতে গিছিলাম। তখন ড্রাম ট্রাকে চাঁদর মুড়ি দিয়ে একজন আসে আমাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, বালুঘাটের সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করেছে। আহত আকাশের সৎ বাবা ইব্রাহিম শেখ বলেন, ছেলে এখনও হাসপাতালে। ডাক্তার অপারেশন করতে বলেছে। টাকা পয়সা নাই। বিচারের আশায় থানায় মামলা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আসামিদের চিনতে পারিনি আকাশ। সেজন্য যে ট্রাকে এসেছিল সন্ত্রাসীরা, তাঁদের নামে মামলা করা হয়েছে।কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, বালু নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ যুবকের মা শনিবার রাতে মামলা করেছেন। মামলায় পূর্বের গ্রেপ্তার তিনজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।