কুমারখালীত পাট শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীত পাট শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৪

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীত পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কিন্তু দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। চলতি মৌসুমের এক থেকে দেড় মাস অনাবৃষ্টির কারণে খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় ঠিক সময়ে পাট পচাতে পারেননি চখরার কারণে অতিরিক্তি খরচ করে অনেক চাষি দূর-দূরান্তে নদ-নদীতে পাট পচানোর ব্যবস্থা করেন। মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের উপযোগী হওয়ায় কুমারখালীতে এক সময় ব্যাপক পাট উৎপাদন হতো।

তবে গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাব, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, সার, কীটনাশকের দাম নাগালের বাইরে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাটচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা। আবার অনেক চাষি পাটকাঠির আশা ছেড়ে দিয়ে শুধু আঁশ তুলে স্বল্প পানিতে ‘রিবন রোটিং’ পদ্ধতিতে পাট পঁচার ব্যবস্থা করেন।

তবে গত দেড় সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে নদ-নদী ও খাল-বিল ভরে যাওয়ায় পাট চাষিদের মাঝে স্বস্তি দেখে দিয়েছে। কুমারখালী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি মৌসুমে কুমারখালী উপজেলার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়  প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। অর্জন হয়েছে ৪  হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কম পাট চাষ করেছেন কৃষকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন নদ-নদীতে পাট চাষিরা এখনো পাট পচাচ্ছেন। আবার অনেকেই পাটের আঁশ ছাড়ানো ও পাট শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন হাট-বাজারে পাট উঠতেও শুরু করেছে।

এ ছাড়া পাট কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসছেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তাদের পাট কিনতেও দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকার পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার একদিকে খরা আর অন্যদিকে শ্রমিকসহ কৃষিতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাটের মণ আড়াই হাজার, ২ হাজার ৭০০, ২ হাজার ৮০০ ও ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন পাট চাষিরা। কুমারখালী উপজেলার খয়েরচারা এলাকার পাট চাষি কেয়া শেখ ও আবুল কামাল জানান, তারা প্রত্যেকেই দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। অনাবৃষ্টির কারণে বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে এক ডোবার হাঁটু পানিতে পাট পচে আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ করেছেন।

এই দুই চাষি বেশিরভাগ কাজ নিজেরাই করেছে বলে বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই দুই চাষির পাটের আঁশ ছাড়ানোর বদলে পাটকাঠি দেওয়ায় অনেকেই পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজ করে দেন। বিঘায় ৫ মণ পাট আসায় দেড় বিঘায় সাড়ে ৭ মণ পাট হয়েছে পাট চাষি কাসেমের। তারা আরও জানান, সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ যে পরিমাণ খরচ বাড়ছে তাতে পাটের দাম ৩৫০০-৪ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারলে পাট চাষিরা লাভের মুখ দেখবেন। তা না হলে প্রতিবছর পাট চাষিরা লোকসান গুনতে গুনতে পাট চাষে আগ্রহ হারাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ দাস বলেন, চলতি মৌসুমে কুমারখালী উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৯৭৫ হেক্টর জমিতে। পাট রোপণের সময় অতিবৃষ্টির কারণে এ বছর ৪৬৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষিরা পাট চাষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, পাট চাষ এখন পরিত্যক্ত জমি ও চর এলাকাগুলোতে হচ্ছে। উন্নতজাতের পাট চাষ করতে কৃষি বিভাগ প্রান্তিক চাষিদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষি বিভাগ চলতি পাট মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে কৃষকের মাধ্যমে প্রদর্শনী প্লট তৈরি করেছি। বর্তমান পাটের বাজারে চাষিরা ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় পাট বিক্রি করছেন। দাম বাড়লে পাট চাষিরা আরও লাভবান হবে।