কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ রাত পোহালেই বহুল কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ১০২ টি কেন্দ্রে পৌছে গেছে ব্যালট ইপেপারসহ সকল নির্বাচনি সারঞ্জামাদি। কিন্তু এই উপজেলায় ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮ টিই ঝ্ুঁকিপূর্ণ বলে চিহৃিত করেছে প্রশাসন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ, আনছার নিয়োগের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এসব কেন্দ্রে যৌথবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনি সারঞ্জামাদি। গতকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া ৪ আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ২০ হাজার ৬৫ জন।
তার মধ্যে কুমারখালীতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৮ জন। এখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৮ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০৫ জন। এছাড়াও হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন। তারা ১০২টি ভোট কেন্দ্রের ৫৯৮টি কক্ষে ভোট দিবেন। এছাড়াও খোকসাতে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ২৮৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬০ হাজার ৭৯ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬০ হাজার ২০৮ জন। তারা ৫০টি কেন্দ্রের ২৪৩টি কক্ষে ভোট দিবেন। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুপুরে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনে দাঁয়িত্ব প্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ, আনছার, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ সকল কর্মকর্তা – কর্মচারীরা নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
কেউ কেউ সারঞ্জামাদি নিয়ে নিজ নিজ যাচ্ছেন। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, ১০২ কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রই ঝ্ুঁকিপূর্ণ। পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সকল প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুরে পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ ভোট জনগণের আমানত। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। জান দেওয়া হবে, তাও জনগণের আমানত নষ্ট হতে দিবোনা। আমি আত্মবিশ্বাসী, নির্বিঘ্নে মানুষ ভোট দিবে। যেকোনো মূল্যেই হোক অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
