কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নেই ডাক প্লেগ রোগের ওষুধ। অথচ পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এক ফার্মেসিতে। সেই ওষুধ আবার বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাটিকামারা এলাকার মেসার্স শিপলু ফার্মেসি যাওয়া হয়। সেখানে ফ্রিজে ২২ পিস হাঁসের ডাক প্লেগ নামের সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। পরে সেখানে হাজির হন উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সরকারি ওষুধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগে মেসার্স শিপলু ফার্মেসির মালিক মো. বাবুল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, জব্দ করা হয় সরকারি ওষুধ। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছ থেকে ৫০ পিচ ডাক প্লেগ ওষুধ প্রতি পিচ ৫০ টাকায় কেনেন ফার্মেসি মালিক বাবুল হোসেন। তিনি প্রতি পিচ সরকারি ওষুধ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করছিলেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন খামারি জানান, তিনি আজ প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে ডাক প্লেগ ওষুধ পাননি। পরে শিপলু ফার্মেসি থেকে ১০০ টাকা দিয়ে এক পিচ কিনেছেন। ওষুধ মজুত ও বিক্রির কথা স্বীকার করে ফার্মেসী মালিক বাবুল হোসেন জানান, তিনি প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে ৫০ টাকা দরে ওষুধ কিনে খামারিদের কাছে ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে খামারিদের উপকার হচ্ছে। সরকারি ওষুধ বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণ অপরাধ বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজই ডাক প্লেগ ওষুধ শেষ হয়েছে। অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রির সঙ্গে আমার কার্যালয়ের কেউ জড়িত থাকলে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, সরকারি ওষুধ বিক্রি ও মজুদের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে।
