কুমারখালীতে হত্যার অভিযোগে কবর থেকে লাশ উত্তোলন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে হত্যার অভিযোগে কবর থেকে লাশ উত্তোলন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২১, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দাফনের প্রায় ৬ মাস পর কবর থেকে সোহেল শেখ (৪৮) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া শেখপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার মৃত শাহাদত শেখের ছেলে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়ার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পিবিআই পুলিশ। আদালতের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কুমারখালী সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, কুষ্টিয়া পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. কামাল হোসেন, কয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য শহিদুল ইসলাম, কবরস্থান কমিটির সভাপতি মোজাহারুল হক মিলন, নিহতের স্বজন ও কয়েক শত উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদী ও নিহত ব্যক্তির ছেলে সোহানুর রহমানের ভাষ্য, ৪ শতাংশ জমি লিখে নিয়ে তার দাদী নুরজাহান, ফুফু জরিনা খাতুন, ফুফা আজাহার ও দুই ফুফাতো ভাই জীবন ও শিপন যোগসাজশে সোহেলকে বিষাক্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করে তড়িঘড়ি করে দাফন কার্য সম্পন্ন করেছিলেন। জমির মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। আর স্থানীয়রা ও অভিযুক্তদের দাবি, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড, ডায়াবেটিকসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। ছেলে সোহানুর ও স্ত্রী স্বপ্না ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। তারা সোহেলের খোঁজখবর নেয়না। ফলে তিনি বাবার ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত সামান্য জমিটুকু তার মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মরার আগে। মূলত সেই জমির জন্য সোহানুর হত্যার অভিযোগ তুলে কবর থেকে বাবার মরদেহটি উত্তোলন করেছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, কয়েকবছর আগে সোহেল তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

সেখানে ২০২৩ সালে হঠাৎ স্ট্রোক করে তিনি প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত হন। ঢাকায় দুইমাস চিকিৎসা শেষে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্ত্রী স্বপ্না ও ছেলে সোহানুর রহমান। এরপর অবহেলায় অযত্নে সোহেল নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ৬ জুন সকালে মারা যান। ওইদিন তাকে স্বজন ও স্থানীয়রা তার মরদেহটি কালোয়া শেখপাড়া কবরস্থানে দাফন করেন। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই শারীরিক নির্যাতন ও বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী আমলী আদালতে মামলা করেন নিহত সোহেলের ছেলে সোহানুর রহমান। মামলায় সোহেলের মা, বোনসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়।

মামলাটি তদন্তের দাঁয়িত্ব দেওয়া হয় কুষ্টিয়ার পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (নিঃ) মো. কামাল হোসেনকে। তিনি তদন্তের স্বার্থে ২৭ আগষ্ট কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলনের জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন করেন। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালতের মরদেহটি উত্তোলনের আদেশ দিলে গতকাল মঙ্গলবার কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোহান মৃত্যুর পূর্বে তার পৈত্রিক সম্পত্তি মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিল। মামলার বাদী সোহানুর রহমান বলেন, বাবা অসুস্থ হলে তাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করছিলাম। প্রতিমাসে বিকাশের মাধ্যমে খরচ পাঠাতাম। কিন্তু আমার দাদী নুরজাহান, ফুফা আজাহার, ফুফু জরিনা খাতুন, ফুফাতো ভাই জীবন ও শিপন চার শতাংশ জমির জন্য যোগসাজশে বাবাকে শারীরিক নির্যাতন ও বিষাক্রিয়া প্রয়োগ করে হত্যা করেছে।

হত্যার পর আমাদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা করেছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দাফন কাজ থামিয়ে রেখেছিলাম। পরে ঢাকা থেকে এসে সবাই মিলে দাফন করা হয়। তিনি আরো বলেন, মাত্র ৬ লাখ টাকার জমির জন্য আসামিরা বাবাকে হত্যা করেছে। সঠিক বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছি। অভিযোগ অস্বীকার করে সোহানুর রহমানের ফুফা মো. আজাহার বলেন, সোহেল প্যারালাইজড, ডায়াবেটিকসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। কিন্তু স্ত্রী সন্তান সোহানের খোঁজ নিতোনা। সেজন্য মরার আগে পৈত্রিক সম্পত্তি তার মায়ের নামে ফের রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিল। সেই জমির লোভে সোহানুর মিথ্যা মামলা করে সবাইকে হয়রানি করছে। গতকাল লাশও তুলেছে কবর থেকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (নিঃ) কামাল হোসেন বলেন, বাদী সোহেল তার বাবাকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিল।

মামলায় তদন্তের স্বার্থে মরদেহটি উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাভিদ সারওয়ার জানান, আদালতের নির্দেশনায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহেল শেখ নামের এক ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। উত্তোলনের পর তা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির কবর সনাক্ত করেন তার ছেলে সোহানুর রহমান।