কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় কারাগারে থেকেও ভূয়া মেডিকেল প্রেসক্রিপশন তৈরি করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুনের যোগসাজশে ছুটি মঞ্জুরের পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে বাগুলাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি হইতে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় কুষ্টিয়া জেল হাজতে ছিলেন সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম। তবে ভূয়া মেডিকেল প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে ১ মাসের ছুটি মঞ্জুর করার কাগজপত্রাদি তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সাবমিট করেন। প্রেসক্রিপশনে মেডিকেল রিপোর্টে এমবিবিএস (রামেক) বিসিএস (স্বাস্থ্য) মোঃ আহসান হাবিবের নাম ব্যবহার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ রিপোর্টটি ডাক্তার আহসান হাবিবের স্বাক্ষর ও প্রেসক্রিপশন জাল করে তৈরি করা।
আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী নাজমুন্নাহার (বিউটি) (৩৫) এই বিষয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বগুলাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম নামে মামলা করি। তারি প্রেক্ষিতে গত ১১ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান। আশরাফুল ইসলাম জেলে থাকাকালীন কি ভাবে ছুটি নিতে পারেন এটা আমার প্রশ্ন। তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুনের যোগসাজশে ডাক্তার আহসান হাবিবের নাম ব্যবহার করে ভূয়া মেডিকেল রিপোর্ট দেখিয়ে ছুটি মঞ্জুরের চেষ্টা করেছেন। এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। এই বিষয়ে ডাঃ মোঃ আহসান হাবিব বলেন, আশরাফুল ইসলাম নামে কোন রুগিকে আমি এই ধরনের রিপোর্ট দেয়নি। আমি সব সময় কম্পিউটারে টাইপ করে প্রেসক্রিপশন করে থাকি। তিনি যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে এটা জাল করা।
এসব প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা উচিত। বাগুলাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন বলেন, আমি জানতাম না আশরাফুল জেলে ছিল। আমার কাছে তিনি তথ্য গোপন করেছে। জানলে এভাবে ছুটির জন্য আবেদন করতাম না। আমি চাই অবশ্যয় অপরাধীর শাস্তি হোক। অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর করা মামলায় আমি জেলে ছিলাম। আমি ছুটি নেওয়ার নিছি, আপনারা যা পারেন তাই করেন। আমার কাছে অনেক ডাক্তারি রিপোর্ট আছে। কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক বলেন, প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন তথ্য গোপন করে ছুটির কাগজে সাক্ষর করিয়েছে। পরে জানলাম সহকারী শিক্ষক জেলে ছিলেন। যেকোনো ঘটনায় তথ্য গোপন করা অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
