মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর বটতলা নামক স্থানে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুলাই ) সকাল ১০ থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। কেউ কেউ আবার এসব দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছাড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়। তবে বিষয়টি অমানবিক ও আইনবিরোধী বলে দাবি করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদরা। আর গ্রাসবাসী বলছেন, সাপটি ভয়ংকর ও বিষধর হওয়ায় লোকজনের মাঝে পরিচিত বাড়াতে এবং সকলকে সচেতন করতে গাছে ঝুলিয়ে মারা হয়েছে। উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, এভাবে একটি জীবকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে পেট চিড়াই করার ঘটনাটি আইন বিরোধী ও নেক্কারজনক। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিকেলে সরেজমিন ঘুরেঘুরে জানা গেছে, সকাল ১০ টার দিকে কল্যাণপুর এলাকার মোক্তার হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান নিজ জমিতে ঘাঁস কাটতে গিয়েছিলেন। সেসময় তিনি ঘাঁসের জমিতে একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান। এরপর সাপটিকে হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে আধামরা করেন এবং তাঁর ভাই নাসির উদ্দিনকে ফোন দেন। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে বটতলা নামক স্থানে নিয়ে এসে একটি গাছে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে মারধর করে। এরপর সাপটির পেটে বাচ্চা আছে কি না তা দেখতে পেট চিড়াই করেন স্থানীয় পশু পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক। অতপর সাপটিকে পুড়িয়ে মাটা চাপা দেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ আবার এই সব দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে ভাইরাল করেছেন। এবিষয়ে কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, নিজ জমিতে ঘাঁস কাটার সময় সাপটি তাঁর দিকে ঝাপিয়ে পড়ছিল। সেসময় তিনি সাহস করে হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে আধামরা করেন। এরপর ফোনে স্থানীয়দের ডাকেন তিনি। এরপর স্থানীয়রা সাপটিকে গাছে ঝুলিয়ে রেখে মারেছে। বটতলা এলাকার মুদি দোকানি মোঃ বকুল হোসেন জানান, সাপটি বিষধর ও ভয়ংকর। সেজন্য জনগণকে সচেতন করতে এবং পরিচিতি বাড়াতে সাপটিকে সবাই মিলে অনেকক্ষণ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। পরে এক ডাক্তার পেট চিড়াই করেন। অতপর পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। অনেকে আবার ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছেন।
এভাবে ব্লেড দিয়ে সাপটির পেট চিড়াই করা ভুল হয়েছে বলে জানান পল্লী চিকিৎসক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, সাপটির পেট মোটা ছিল। পেটে বাচ্চা আছে কি না তা দেখার জন্য সবাই তাকে পেট চিড়াইয়ের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে পেট কাটাটা তার ভুল হয়েছে বলে জানান তিনি। অপরদিকে রাসেলস ভাইপার সাপের খবরে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সবাই ঘরে থাকতে এবং মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলেন জানিয়েছেন কৃষক রবিউল ইসলাম ও গৃহিণী সেবা রাণী বিশ্বাস।
ঘটনাটি বন ও প্রাণি সংরক্ষণ আইন বিরোধী বলে জানান বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহ সভাপতি সাহাবউদ্দিন। তিনি জানান, বড় কোনো জনসচেনতা নেই। এভাবে আমরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি। ভবিষ্যতে এর ক্ষতিপূরণ কোনোদিন শোধ হবেনা। ঘটনার বিচারের দাবি জানান তিনি। এমন ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি জানান, মানুষ আতঙ্কে অনেক কিছু করে ফেলেন। সকলকে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।
