কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মসজিদ কমিটি নিয়ে চাচাতো চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্বে দু’পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও উভয়পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (১৭ আগষ্ট) সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামে থেমে থেমে চলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আহতরা হলেন-কসবা গ্রামের মান্নানের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৮), মৃত সাহেব আলীর ছেলে মিরাজ অলী (৫০), হাবিবুর রহমানের হাসিবুর রহমান (২২), মিরাজের ছেলে নয়ন প্রামাণিক (২৬), চাঁদ আলীর ছেলে রানা (৩৫), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মজনু (৫০, আকরামের ছেলে আনন্দ (২০), মজনুর ছেলে সুমন (১৮), শফিকুলের নাইম (১৮), মৃত আতাহার আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান, রহমানের ছেলে উজ্জল (৪০), মোহাম্মদের ছেলে সাব্বির (৩০), ইয়াকুব শেখের ছেলে বাবুল শেখ (৩৫), মিজবার আলী (৫০), মোমিন (৪৩), মামুন হোসেন (৩৬) ও নাছির (৪৫)। তারা উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর ধরে কসবা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক পদে দাঁয়িত্ব পালন করেন গ্রামের মৃত শিতলের ছেলে জামাল উদ্দিন (৫০)। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে মসজিদের অর্থ ছয়নয়ের অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসী। সেজন্য প্রায় তিনমাস পূর্বে তাকে বাদ দিয়ে মৃত আতাহার আলীর ছেলে মো. হাবিলকে সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়। তারা সম্পর্কে চাচাতো চাচা-ভাতিজা। এনিয়ে গ্রামে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়।
তাদের মধ্যে চলছিল বিরোধ। একপর্যায়ে গত শুক্রবার জুম’আর নামাজ শেষে নতুন সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিলকে মারধর করে প্রতিপক্ষের একজন। আর গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে থেমে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ১০ থেকে ১২ টি বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট করা হয়। দুপুরে সরেজমিন কসবা গ্রামে দেখা যায়, গ্রামের দুই মাথায় জড়ো হয়ে আছেন দু’পক্ষের লোকজন। অনেকটা থমথমে পরিবেশ।
আতঙ্কিত গ্রামবাসী। বেশকিছু ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। এসময় হাবিল গ্রুপের নাছিমা খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তার ঘরের বেড়া, ফ্রিজ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করেছে। জামাল গ্রুপের লিটনের স্ত্রী তানিয়া খাতুন বলেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব। জামালের সমর্থক হওয়ায় প্রতিপক্ষরা বাড়িতে ভাঙচুর করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
এবিষয়ে কসবা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিল বলেন, জামাল মসজিদ ফান্ডের টাকা আত্মসাত করে ব্যবসা বাণিজ্য করত। কোনো হিসাব দিতোনা। সেজন্য গ্রামবাসী জামালকে বাদ দিয়ে তাকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছে। গত শুক্রবার তার উপর হামলা করেছে। আবার আজ ( শনিবার) তাঁর লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, হাবিল কিছু মাদকাসক্ত লোকজন নিয়ে এসে তার সমর্থিত লোকদের উপর হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তার অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছে। বেশকিছু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তিনি থানায় মামলা করবেন। শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী হাসান তারেক বিপ্লব জানান, মসজিদের টাকা বন্টন নিয়ে চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্বে বেশকিছু লোক আহত হয়েছেন। ঘরবাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান।
কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম জানান, মসজিদ কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও বেশকিছু বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
