কুমারখালীতে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৩০, ২০২৬

মিলেছে টাকা নেওয়ার ভিডিও!

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং বর্তমানে প্রেষণে উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত মোছা. জেসমিন আরার বিরুদ্ধে আবারও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জমির নামজারি (খারিজ) করতে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া, দীর্ঘদিন ফাইল ঝুলিয়ে রাখা, দালালচক্রের মাধ্যমে সেবা নিয়ন্ত্রণ এবং ঘুষ গ্রহণের ভিডিওচিত্র পাওয়ার দাবিকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে জেসমিন আরার কাছে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যেত না। নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, অফিসকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হতো।

সরাসরি অফিসে গেলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হলেও দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হতো বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, জমির নামজারি করতে তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে অফিস-সংশ্লিষ্ট পরিচয় দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তাকে কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়ে গিয়ে জেসমিন আরার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে ১০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ১০ হাজার টাকা সরাসরি দেওয়া হয়।

কিন্তু এরপরও কাজ সম্পন্ন না করে উল্টো আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল এগোবে না বলে চাপ দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে আরও ১৭ হাজার টাকা দেন তিনি। দাবি করা বাকি ৩ হাজার টাকা না দেওয়ায় তার নামজারির কাজ আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পুরো টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি।

প্রতিবার যোগাযোগ করলে আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। মাসের পর মাস ঘুরেও কোনো সমাধান মেলেনি। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, জেসমিন আরা কয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিওচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া জেলার অন্য একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায়ও তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। সে ঘটনায় তাকে দীর্ঘ সময় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোছা. জেসমিন আরা বলেন, আমার সঙ্গে সরাসরি কথা না বলে আপনারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। যা ইচ্ছা করেন। পূর্বের বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, আপনি আগামীকাল অফিসে আসেন, আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা হবে। তখনই বক্তব্য নিয়েন। প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি দেখতে চান। পরবর্তীতে ভিডিওটি পাঠানো হলে তিনি জানান, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। তখন যদি কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হতো কিংবা চাকরিচ্যুত করা হতো, তাহলে আজ এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না। তাদের মতে, দায়মুক্তির সংস্কৃতিই এমন অনিয়মকে উৎসাহিত করছে।