কুমারখালীতে বিয়ের দাবীতে অনশনে প্রবাসীর স্ত্রী
৬ বছর আগে কুমারখালী উপজেলা চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর দক্ষিণপাড়ার সৌদি প্রবাসী সুমনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়নপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে অন্তরা খাতুন (২৫)।

কুমারখালীতে বিয়ের দাবীতে অনশনে প্রবাসীর স্ত্রী
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩) নভেম্বর ধলনগর দক্ষিণপাড়ার রশিদ বিশ্বাসের ছেলে আনিচ বিশ্বাস (২৫) লোকচক্ষুর আড়ালে অন্তরা খাতুনের ঘরে প্রবেশ করে। বিষয়টি মেয়ের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা টের পেয়ে ছেলেসহ মেয়েকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখে।
অল্পসময়ে মধ্যে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে আনিচের পরিবারের লোকজন দলবল নিয়ে সৌদি প্রবাসী সুমনের বাড়ীতে হামলা করে এবং দরজার তালা ভেঙ্গে আনিচকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এদিকে এই ঘটনার পরে গত বুধবার (১৫ নভেম্বর) অন্তরা খাতুন বিয়ের দাবীতে প্রেমিক আনিচের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়।
বৃহঃবার (১৬ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্তারা খাতুন অনিচের বাড়ীতে অবস্থান করছে এবং আনিচ ও তার পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনা বুঝতে পেরে বাড়ী থেকে পালিয়েছেন। যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটণা এড়াতে আনিচের বাড়ীতে পার্শবর্তী চৌরঙ্গী পুলিশের একটি দল অবস্থান করতেও দেখা যায়। এদিকে আনিচ বা তার পরিবারের কোন সদস্যকে বাড়িতে না পেয়ে এলাকার মাতব্বরের সাহায্যে ছেলেকে হাজির করার নির্দেশ দেয় পুলিশ কর্মকর্তারা এবং অন্তরা খাতুনকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না কারার শর্তে অন্তরা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের সুখের সংসার আনিচ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই অথবা অন্তরাকে বিয়ে করে সংসার করুক। আমার ইতমধ্যে এই বিষয়ে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অন্যদিকে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মেয়েকে দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন অভিযুক্ত আনিচের বাড়িতে প্রতিনিয়ত ভীড় জমাচ্ছেন। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আকিবুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
