কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খালের মাটি বিক্রি ও বাড়ির পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। দলের নেতার আশকারায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি কাটা চললেও জানে না পাউবো বা প্রশাসন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে প্রতিবাদ করার সাহস নেই তাদের। উপজেলার নিয়ামতবাড়িয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কাটা হচ্ছে মাটি। স্থানীয় বিএনপির কর্মী ভদ্দর সরদার ও রবিউল ইসলাম প্রকাশ্যে এসব মাটি বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন। সরকারি খালের এ মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে রবিউল ইসলামের বাড়ির পুকুরটিও। অভিযুক্ত দু’জন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহম্মদের সমর্থক। এই নেতার অনুমতি নিয়েই তারা মাটি কাটছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহম্মদ। তাঁর দাবি, কে বা কারা মাটি কাটছে তিনি জানেন না। কাউকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলছেন বিএনপির এ নেতা। সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁদপুর ইউনিয়নের নিয়ামতবাড়িয়া বটগাছ থেকে বিলের মাঠ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে খালটি। সেখানে কয়েক ফুট গভীর করে ভেকু দিয়ে কাটা হয়েছে পাড়ের মাটি। এসব মাটি লাটাহাম্বা গাড়িতে করে বিভিন্ন ভাটায় নিয়ে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ৮-১০ টি গাড়িতে অন্তত এক হাজার ৫০০ গাড়ি মাটি কাটা হয়। প্রতি গাড়ি মাটি ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়; যার দাম দাঁড়ায় ৬ লাখ টাকা। এ সময় কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, মাটি কাটার কারণে চলাচলের সড়কটি উঁচুনিচু হয়ে গেছে। শুকনো মাটিতে ধুলায় ধূসরিত হয়ে যায় এলাকা।
বৃষ্টি হলেই আবার সড়কে কাদাপানি জমে একাকার হয়ে যাবে। তখন মাঠের ফসল আনা-নেওয়াসহ চলাচলে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়বে। নেতার লোক হওয়ায় জড়িতদের কিছু বলার সাহস পায় না কেউ। তবে বিএনপির কর্মী রবিউল ইসলামের দাবি, মাটি কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। খালপারের এক কৃষকের কাছ থেকে মাটি কিনে নিজের পুকুর ভরাট করছেন। খালের মাটি কেউ বিক্রি করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভদ্দর সরদার। তাঁর মাটি কাটার যন্ত্রটি (ভেকু) স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ঘণ্টাপ্রতি এক হাজার ৪০০ টাকায় ভাড়া নিয়েছেন বলে জানান তিনি। মাটি কাটার বিষয়টি জানা নেই বলেছেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন পাউবোর এ কর্মকর্তা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিরুল আরাফাত বলেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পাউবোর। এরপরও কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
