কুমারখালীতে বিএনপি কর্মীর বালুঘাটে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে বিএনপি কর্মীর বালুঘাটে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৫, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক বিএনপি কর্মীর বালুঘাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের শিলাইদহ বালুঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও এ সময় তোফাজ্জেল সরদার নামে এক ভাড়াটিয়া বালু ব্যবসায়ীর প্রায় ৯০০ ফিট প্লাস্টিকের মোটা পাইপ ভাঙচুর করা হয়েছে। যাঁর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ বিএনপি কর্মীর নাম ওসমান কাজী। তিনি শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের জাবেদ কাজীর ছেলে। আর ক্ষতিগ্রস্থ ভাড়াটিয়া তোফাজ্জেল সরদার রাজবাড়ী জেলার পাংশার আজিজুল সরদারের ছেলে। তিনি প্রায় সাত বছর যাবৎ ওসমান কাজীর বাড়িতে ভাড়া থেকে নৌকা ও ট্রলার থেকে বালু নামানোর কাজ করছেন। আর অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম আশরাফ প্রামাণিক (৪৫)।

তিনি শিলাইদহ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কসবা গ্রামের আফাজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তবে দলীয় পদ ও লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, শিলাইদহ ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কসবা গ্রামের আফাজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে আশরাফ প্রামাণিকের (৪৫) সঙ্গে বিএনপি কর্মী ওসমান কাজীর জমিজমা, আধিপত্য বিস্তার ও গেল সংসদ নির্বাচনে ভোট করা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারা কয়েকদফা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন।

এ সব ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৫টি মামলা থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব মামলা ও শত্রুতা মিটমাটের জন্য গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে গ্রামে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু  ৬টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিক তাঁর লোকজন নিয়ে এসে প্রতিপক্ষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এছাড়াও ভাড়াটিয়া বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরকারের অন্তত ৬৫টি পাইপ ভেঙে ফেলা হয়। দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীপাড়ে অবস্থিত শিলাইদহ বালুঘাট। নদীতে ছোট বড় বেশকিছু নৌকা ও ট্রলার মোটা বালু মজুদ করা রয়েছে।

সেখান থেকে ড্রেজিং মেশিন ও পাইপের সাহায্য বালু নদীপাড়ে স্তুপ করছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তার মধ্যে বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদারের অন্তত ৬৫টি প্লাস্টিকের পাইপে ভাঙা ক্ষত। এছাড়াও বিএনপি কর্মী ওসমান কাজীর বালু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদার বলেন, ওসমান কাজীর বাড়িতে ভাড়া থেকে প্রায় ৭ বছর ধরে বালু আনলোডের ব্যবসা করছি। আমার কারো সাথে কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু ওসমান কাজীর সঙ্গে আশরাফের বিরোধ আছে আগে থেকেই। সেই শত্রুতার জের ধরে আশরাফ তার লোকজন নিয়ে সকালে প্রথমে কাজীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পরে আমার ৬৫টি পাইপ ভাঙচুর করেছে।

এতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ আসছিল। থানায় মামলা করা হবে। বিএনপি কর্মী ওসমান কাজী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও নদীতে নৌকা ছিদ্র করা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বে একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। এরপর গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ জামায়াতের সঙ্গে মিলেমিশে ভোট করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটে জামায়াত জিতে যাওয়ার পর কয়েক দফা হামলা ও লুটপাট করেছে তারা। এ সব ঝামেলা থেকে বাঁচতে আজ সকালে উভয়পক্ষের বসাবসি ছিল।

কিন্তু তাঁর আগেই প্রতিপক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন লাঠিসোঁটা, ঢাল, সরকিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। যার ভিডিও আছে। তিনি আরো বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। সিন্দুক ভেঙে অন্তত সাড়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে প্রতিপক্ষরা। আর মিলতাল দরকার নেই, আবারো থানায় মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। গতকাল বুধবারে সকালে শিলাইদহ বালুঘাটে হামলা ও ভাঙচুরের কয়েকটি ভিডিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। এতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক মানুষের হাতে ঢাল, লাঠিসোঁটাসহ অসংখ্য দেশীয় অস্ত্র। তারা একটি ঘরে ভাঙচুর করছেন।

এ দিকে বালুঘাটে হামলা করার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আশরাফ প্রামাণিক। তিনি মুঠোফোনে বলেন, বিশেষ কাজে এলাকার বাইরে আছি। ওসমান কাজী আমার জমি দখল করে বালুর ব্যবসা করছে। সালিস বৈঠকেও কাজ হয়না। তাই সকালে জমিতে থাকা ঘর ও পাইপ গুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক ( এস আই) সোহাগ শিকদার বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বালুঘাটে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।