কুমারখালীতে প্লাস্টিকের মোড়ক ব্যবহার করায় ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে প্লাস্টিকের মোড়ক ব্যবহার করায় ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ অনুযায়ী চালের বস্তায় প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার তহবাজার, ছালপট্টি, স্টেশন বাজার এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক ব্যবসায়ী কৃত্রিম প্লাস্টিকের মোড়ক ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন। তবে আইন অমাণ্য করায় তিনজনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পাট উন্নযন অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ অনুযায়ী আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম।

আদালত পরিচালনায় সহযোগীতা করেন জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ, থানার পুলিশ প্রমূখ।আদালত সুত্রে জানা গেছে, পৌর তহবাজার এলাকার বায়োজিদ স্টোরের প্রোফাইটর মো. বায়োজিদকে ১০ হাজার টাকা এবং ছালপট্টি এলাকার মেসার্স খোকন ব্রাদার্সের প্রোফাইটর মো. খোকনকে ১৫ হাজার টাকা ও মেসার্স হোসেন ব্রাদার্সের প্রোফাইটর বেলায়েত হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।দুপুরে সরেজমিন, তহবাজার, স্টেশনবাজার ও ছালপট্টি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই ধারে খুচরা ও পাইকারী চালের দোকান। দোকানের ভিতরে সাড়ি সাড়ি করে সাজানো রয়েছে আহাদ, মিজান, সাব্বিরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের বস্তা। সেগুলোর মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে প্লাস্টিক। সেখানে অভিযান পরিচালনা করছেন ইউএনও।এ সময় বায়োজিদ স্টোরের প্রোফাইটর মো. বায়োজিদ, মেসার্স খোকন ব্রাদার্সের প্রোফাইটর মো. খোকন, মেসার্স হোসেন ব্রাদার্সের প্রোফাইটর বেলায়েত হোসেনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, তহবাজার, ছালপট্টি ও স্টেশন বাজার এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। দোকান গুলোতে পাটের বদলে প্লাসটিকের মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, বস্তায় মোড়কীকরণের কাজ করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

কারখানা থেকে প্লাস্টিকের বস্তা না দিলে তো আর ব্যবসায়ীরা বিক্রি করবে না। আপনারা কারখানায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ করুন। কারখানায় প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার বন্ধ করতে একাধিকবার ইউএনও কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। তবুও বন্ধ হয়নি। বরং প্রশাসন বারবার ব্যবসায়ীদের জরিমানা করে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন।জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদরের খাজানগর এলাকার প্রসিদ্ধ চালের মোকামের মধ্যে অন্যতম আহাদ এগ্রোফুড প্রোডাক্ট। এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির প্রোফাইটর মো. আমিরুল ইসলামকে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তিনি কলটি গ্রহণ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।জানতে চাইলে কুমারখালী নাগরিক কমিটির সদস্য কে এম আর শাহিন বলেন, চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতা এবং আইন প্রয়োগকারীদের নানান অজুহাতে ম্খু থুবড়ে পড়েছে আইন। তিনি আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান।প্লাস্টিকের ব্যবহারের বিষয়ে বরাবরই উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, চালে পাটের বদলে প্লাস্টিকের মোড়ক ব্যবহার করার অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ও জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।