কুমারখালীতে প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষার চাষ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষার চাষ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩

প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষার আবাদ। অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। এবার এই উপজেলাতে ২৭ শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যা, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শ’হেক্টর জমিতে এবার সরিষা চাষ বেশি হয়েছে বলে জানান, কৃষি অফিস।

কুমারখালীতে প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষার চাষ

কুমারখালীতে প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষার চাষ

অল্প শ্রম আর স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে কুষ্টিয়া কুমারখালীতে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যায় সরিষার ফলনও হয়েছে ভালো। অল্প সময়ে সরিষার বাম্পার ফলনে চলতি মৌসুমে বেশ লাভবান কুমারখালী সরিষা চাষিরা। উপজেলার সব মাঠ গুলোতে কমবেশি আবাদ হয়েছে সরিষার। তবে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন, চাপড়াা ইউনিয়ন ও চর সাদীপুর গ্রামে , সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় সরিষার ফলন ঘরে তুলে ধান চাষের জন্য জমি তৈরি করতে ব্যস্ত এখন এসব এলাকার চাষিরা।

গত মৌসুমে সরিষা আবাদের পরিমাণ ছিলো ১৯ শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। কৃষকের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের সরিষার আবাদ হলেও টরি ৭, বারি ১৪, বীনা ৯ এবং বীনা ১৪ জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। কুমারখালী চর জগন্নাথপুর এলাকার কৃষক, জমি তৈরি করা থেকে ফলন ঘরে তোলা পর্যন্ত তিন বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এসব জমি থেকে প্রায় ১৪ মণ সরিষার ফলন পেয়েছেন তিনি।

সরিষা চাষী নজরুল ইসলাম জানায়, অন্যান্য ফসলের মতো সরিষা আবাদে তেমন শ্রমের প্রয়োজন হয় না। জমি থেকে পাকা সরিষা সংগ্রহ ও মাড়াই করে ফসল ঘরে তোলার জন্য পরিবারের পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি তাই তিনি নিজেও নিয়মিতভাবে কাজ করেন বলে জানান।

কুমারখালী উপজেলার কৃষক বদিউল জানান, অল্প খরচ ও সল্প সময়ে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায়। হঠাৎ করে দুই দিন বৃষ্টি হওয়ায় সরিষার কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবুও চলতি মৌসুমে সরিষার ফলনও হয়েছে বেশ। সরিষার বর্তমান বাজারদর ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করে পরে বিক্রি করলে সরিষার বাজারদর আরও বেশি পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস জানান, এবার ২৭ শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা বেশি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে । বিঘা প্রতি মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ করে ৫ থেকে ৬ মণ করে সরিষার ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। এতে করে অল্প খরচে বেশ লাভবান হয়েছেন উপজেলার সরিষা চাষিরা।