কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউনুস আলী নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার বোন জামাই মুক্তার শেখ ও তার লোকজন। এ সময় আহত হয়েছেন নিহতের ছেলেসহ চারজন। গতকাল শনিবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোদ্দবন গ্রামে মাঠে ধান কাটতে গেলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউনুস আলী শিলাইদাহ ইউনিয়নের খোদ্দবন এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ক্ষয়ক্ষতি ও হত্যাচেষ্টার কথা জানিয়ে কুমারখালী থানায় একটি অভিযোগ করেছিলেন ইউনুস আলী। মুক্তার শেখকে প্রধান করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১২ জনকে আসামি করে অভিযোগ দেন তিনি। এ ঘটনার একদিন পরেই মুক্তার শেখের হাতেই খুন হন ইউনুস আলী। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তার শেখের সাথে অনেক বছর আগে বিয়ে হয় ইউনুসের ছোট বোনের। এরপর নিহত ইউনুসের ছোট বোনের মেয়ের প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ইউনুসের ছেলে। দু’জনের প্রাপ্তবয়স্ক না হলেও দুই পরিবার মিলে তাদের বিয়ে দেয়। কিছুদিন যাওয়ার পরে মুক্তারের মেয়ের বিরুদ্ধে পরকিয়ার অভিযোগ তুললে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিয়ের কিছুদিন যাওয়ার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর বেশ কয়েকদিন ধরে মুক্তার ও তার লোকজন ইউনুসের জমির ধান কাটতে বাধা ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় কয়েকদিন আগে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ইউনুস। গতকাল শনিবার সকালে ইউনুস আলী বেশ কয়েকজন শ্রমিককে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে যায়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুক্তার, মুক্তারের দুই ছেলে, উজির, বাদশা, রহন, এহের, জহুরুল, ফরিদসহ প্রায় ৩০ জন ইউনুসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ বিষয়ে নিহত ইউনুস আলীর বড় মেয়ে স্বর্ণালী খাতুন জানান, মুক্তার মুক্তারের দুই ছেলেসহ ১০ থেকে ১২ জন মিলে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই। নিহতের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন জানান, মুক্তার দুই ছেলে সাথে নিয়ে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। আমাকে বিধবা করেছে। আমি এর হত্যার বিচার চাই। শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী হাসান তারেক বিপ্লব বলেন, ধান কাটাকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কুমারখালী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. সাইদ সাকিব বলেন, গতকাল শনিবার সকালে শিলাইদাহ ইউনিয়নের খোদ্দবন গ্রাম থেকে কয়েকজন মারামারির রোগী এসেছিল। তার মধ্যে ইউনুস আলী হাসপাতালের আসার আগেই মারা গেছেন। আহত দুজন কুমারখালীতে চিকিৎসাধীন আছে এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্র“তার জের ধরে একজন নিহত হয়েছেন। অপরাধীধের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সকালে ইউনুস আলী ধান কাটতে গেলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে মুক্তার হোসেনের লোকজন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
