কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কলা বোঝায় পিকআপের সঙ্গে সেলোইঞ্জিনচালিত নছিমন গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত চালক মারা গেছেন। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরআগে, সন্ধায় কুষ্টিয়া – রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর জিলাপীতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মিলন হোসেন (৫০)। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার লাহিনীপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, একটি কলা বোঝায় পিকআপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৭১৫৫) রাজাবাড়ীর দিকে আর সেলোইঞ্জিন চালিত নছিমন গাড়িটি কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল।
পথিমধ্যে জিলাপীতলা মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নছিমন গাড়িটি পিকআপের সামনে পড়লে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় নছিমন গাড়ি চালক মিলন হোসেন ছিটকে পিকআপের ভিতরে ঢুকে যান। এতে তার বাম পায়ের প্রায় ৯৮ ভাগ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা আহত মিলনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আরো জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় পিকআপ ও নছিমন গাড়ি দুইটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ গাড়ি দুইটি জব্দ করে।
জিলাপীতলা এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী আমিনুর রহমান বলেন, কলা বোঝায় পিকআপ গাড়িটি রাজবাড়ীর দিকে আর নছিমন গাড়িটি কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। জিলাপীতলা এলাকায় পৌছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার আলী হোসেন বলেন, ‘৯৯৯’ এ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আহত মিলনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্ররণ করা হয়। তার বাম পা প্রায় ৯৮ ভাগ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন। কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. আবু ওয়াহেদ ফোনে বলেন, পিকআপ ও সেলোইঞ্জিন চালিত নছিমন গাড়ির সংঘর্ষে আহত ব্যক্তি মারা গেছেন। গাড়ি দুটিকে জব্দ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইনী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
