কুমারখালীতে পল্লী বীজ ব্যাংক নামে কোম্পানি খুলে গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে পল্লী বীজ ব্যাংক নামে কোম্পানি খুলে গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে কৃষিপণ্য, বীজ, কীটনাশক কৃষকদের দেওয়ার কথা বলে এবং মাঠ কর্মীদের জামানতের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে পল্লী বীজ ব্যাংকের সিও শফিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা। প্রায়  শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায়  লাখ টাকা ও মাঠ কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে পল্লী বীজ ব্যাংক নামে ভুয়া কম্পানি। গত তিন মাস আগে, কুমারখালী নন্দুলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর চড়াইকোল রেল স্টেশন এলাকায় তপিজাননেছা সুপার মার্কেট কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের পাশে দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে  গঠে তলে পল্লী বীজ ব্যাংক নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথম থেকেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ছিল । এই নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকায় একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাহক ও মাঠ কর্মীরা জামানতের টাকা সহ বেতনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সিও শফিকুর রহমান কে চাপ দিতে থাকে। গ্?াহক ও মাঠ কর্মীদের টাকা ফেরত দিবে বলে ঘুড়াতে থাকে তিনি।  এই মধ্যে ৫৫ হাজার টাকার একটি চেক দেন শফিকুর। কিন্তু সেই একাউন্টে কোন টাকা না থাকায় গ্?াহক ও মাঠকর্মীরা কোন টাকা পাইনি। এর পর থেকে আত্মগোপনে চলে গেছে প্রতিষ্ঠানের সিও শফিকুর রহমান। ভুক্তভোগীরা জানান, নন্দুলালপুর ইউনিয়নের চড়াই বাজারে   অফিস ভাড়া নেয় পল্লী বীজ ব্যাংক।  গত  জানুয়ারি থেকে ওই ভবনে  সংস্থার অফিস চালু করা হয়। মাঠপর্যায়ে গ্রাহক সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় বেশ কিছু নারী ও পুরুষ মাঠকর্মীও নিয়োগ দেয় তারা। গ্রাহকদের  কৃষি পণ্যে  দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেয় কয়েক লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভবনের দ্বিতীয় তলায় পল্লী বীজ সংস্থা নামে সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। তালাবদ্ধ অফিস কক্ষের সামনে একাধিক ভুক্তভোগী দাঁড়িয়ে আছেন। সেই সময় কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা শরিকুল ইসলাম নামে এক জন কে সাধারণ জনগণ ইউপি চেয়ারম্যান কার্যলয়ে নিয়ে যায়। জানা যায়, শফিকুল ইসলাম তিনি পল্লী বীজ ব্যাংকের সংগঠন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি এই পল্লী বীজ ব্যাংকের সংগঠন । তিনি কম্পানির সিও শফিকুর রহমান কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে এই অফিসে আসলে এখানকার মাঠ কর্মীরা আমাকে আটকায় এবং টাকা দাবি করছে।  তাদের টাকা সিও শফিকুর রহমান নিয়েছে। আমি কিছু জানিনা। নান্টু  নামে এক ভুক্তভোগী  বলেন, আমার ও আমার স্ত্রী কে চাকরি দেওয়ার দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এই সময় আমার কাছ থেকে ১০ হাজার  নেন। এর পর তাদের কার্যক্রম সন্দেহ হলে, আমি টাকা ফেরত চায়। এই অফিসে দায়িত্বে থাকা মাহফুজুর রহমান মিলটন ও শফিকুল ইসলাম তাদের কাছে এই টাকা নেয়। এখন তারা টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করেছে। শফিকুল নামে এক জন কে ৪ এপ্রিল অফিস থেকে আমরা ধরেছি এর পর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গেলে তিনি সবাইকে হাজির করে সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই। সনিয়া নামে এক মাঠকর্মী বলেন, আমি তিন মাস যাবত এই পল্লী বীজ ব্যাংকে মাঠকর্মীর চাকরি করছি। আমি প্রায় বিশ জনের কাছ থেকে টাকা এনে দিয়েছি। আমি নিজেও তিন মাসের বেতন পাবো এবং জামানতের টাকা ফেরত চাচ্ছি কিন্তু পারছিনা। তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই বিষয়ে এখানকার দাঁড়িয়ে থাকা শফিকুল ইসলাম কে আমরা নন্দুলালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রতিকার চেয়েছি। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। জানা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহক সংগ্রহ করার জন্য মাসিক বেতনে ১২ জন মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয় কথিত পল্লী বীজ সংস্থাটি। এ ছাড়া কয়েকজন দালালও গ্রাহক সংগ্রহে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, কোম্পানীর সিইও শফিকুর রহমান ও তার সহযোগী হিসেবে কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা পরিচয় দেওয়া শফিকুল ইসলাম গ্রাহক ও মাঠকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেন। এই বিষয়ে পল্লী বীজ ব্যাংকের সিও শফিকুল রহমান মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নন্দুলালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকন বলেন, পল্লী বীজ ব্যাংক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে বলে এমন অভিযোগ পেয়েছি। এবং এই বিষয়ে কুষ্টিয়ায় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম নামে এক জন কে পাওয়া যায়। তাদের সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এই বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আকিকুল ইসলাম আকিব বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।