কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বছর গেলেই বাড়ে সার-কীটনাশকের দাম। বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। বাড়তি খরচ মাথায় নিয়েই আমন আবাদ শুরু করেছি। এর মধ্যে অতিবৃষ্টি ও তাপদাহে ধানে মাজরা, পাতা মোড়ানো, কারেন্ট, গান্ধিসহ নানা ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। পোকার কাছে আমরা অসহায়। কথাগুলো বলছিলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পূর্বাশা ক্লাব মোড় এলাকার কৃষক বসির উদ্দিন।
তিনি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। গাছ সবুজ হওয়ার পরপরই মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। আগে এক-দুইবার স্প্রে করে কাজ হয়েছে। এখন তিনবারেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফসল উৎপাদন খরচ এবার আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর, গুলাট ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়– কেউ ধানক্ষেতে কীটনাশক, কেউবা সার ছিটাচ্ছেন। কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কারে।
ক্ষেতের বিভিন্ন অংশে ধান গাছ মরে ফাঁকা হয়ে গেছে। কোনো কোনো গাছের মাথা মরে লালচে হয়ে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৪ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত ধান থেকে প্রায় এক দশমিক ৫ টন চাল উৎপাদন হয়। এ বছর চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ৮১০ টন। এবার প্রতি বস্তায় সারের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিনশ টাকা। প্রতি বোতল কীটনাশক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। জমির ইজারা, চাষ, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় শ্রমিক খরচও বেড়েছে।
সব মিলে প্রতি বিঘায় আমন আবাদে খরচ হয়েছে ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা; যা গতবারের চার থেকে ছয় হাজার টাকা বেশি বলে জানান কৃষক। কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, প্রতিবছর ইজারা, চাষ, পরিচর্যা, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। তার ওপর পোকার আক্রমণ কৃষকের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
