কুমারখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা শুরু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা শুরু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি, ফলপ্রদ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানো, কৃষিকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক পেশায় রূপ দেওয়া, উৎপাদন খরচ কমানো ও তরুণ ও নারীদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপি কৃষি প্রযুক্তি মেলা। গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্থানীয় আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গনে এ মেলার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে সকাল ১১টার দিকে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতারে সভাপতিত্বে এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলামের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো.ওয়াহিদউজ্জামান প্রমূখ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় অন্তত ১৭টি স্টলে উপজেলার প্রায় শতাধিক কৃষক, নার্সারি ও উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য প্রদর্শন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্টল গুলো পরিদর্শন করেন অতিথিরা। তবে মেলায় আগত দর্শনার্থী ও অতিথিদের নজর কেড়েছে শষ্য মানচিত্রটি। যা ধান, সরিষা, পেঁয়াজের বীজ, সূর্যমুখী, ডালসহ প্রায় ১২টি ফসলের শষ্যদানা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেলার দৃষ্টিনন্দন গেটের চারিদিকে কাপড় দিয়ে ঘেরা।

গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল বিভিন্ন ফসলের দানা দিয়ে তৈরি শষ্য মানচিত্র। সকলের নজর যেন এ দিকে। স্টলে সাজানো রয়েছে উচ্চফলনশীল লাউ, বিটরুট, বেগুন, পেঁয়াজ, কুলসহ হরেকরকম কৃষি পণ্য। কেউ দেখছেন। কেউবা তুলছেন ছবি। এ সময় কুমারখালী তাঁতবোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, মেলার প্রদর্শনী দেখে কৃষিতে সকলে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। চমৎকার আয়োজনের মধ্যে সকলের নজর কেড়েছে শষ্যমানচিত্রটি। কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী সামিহা খাতুন বলেন, কলেজে পাশে হওয়ায় মেলায় আসার সুযোগ পেয়েছি। এখানে বড় বড় লাউ, পেঁয়াজ, মাশরুম, ক্যাপ্সিকাম, কুলসহ অসংখ্য পণ্য দেখে খুবই ভাল লেগেছে। আর ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের তৈরি শষ্য মানচিত্রটি অসাধারণ হয়েছে। অনেকেই ছবি তুলেছেন।

শিলাইহদের বেলগাছি থেকে আগত উদ্যোক্তা আব্দুল হামিদ বলেন, হরেকরকম ফুল ও ফলগাছের স্টল দিয়েছি। বেঁচাকেনা তেমন না হলেও প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য মেলায় স্টল দেওয়া হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি, ফলপ্রদ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানো, কৃষিকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক পেশায় রূপ দেওয়া, উৎপাদন খরচ কমানো ও তরুণ ও নারীদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এমন আয়োজন। মেলার শষ্য মানচিত্রটি সকলের নজর কেড়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, কৃষিতে টপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষকের আর অভাবে থাকবেনা। আগামী বুধবার পুরস্কার বিতরণীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে এই আয়োজন।