কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তবে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫ মার্চ থেকে দিনে ও রাতে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে।
এটিকে জাতীয় পতাকা অবমাননা দাবি করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহল। তবে প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি। সেদিন তাঁর দাঁতের ব্যথা ছিল। সেজন্য অনার্স পড়ুয়া ছেলেকে তিনি পতাকা নামাতে বলেছিলেন। কিন্তু ছেলে নামায় নি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৯৩ নম্বর কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমমিক বিদ্যালয়ে সুনসান নিরবতা। বারান্দার লোহার গ্রিল ও ভবনের দরজায় ঝুলছে তালা। ভবনের সামনে অবস্থিত লোহার খুঁটিতে উড়ছে অর্ধনমিত লাল-সবুজের পতাকা।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর আর নামানো হয়নি। দিনে রাতে একইভাবে উড়ছে পতাকা। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও নিয়ম অনুসারে পতাকা তোলা হয়নি। এঘটনায় ভুল স্বীকার করে মুঠোফোনে দুপুর ১২ টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেনে বলেন, বিদ্যালয়ে দপ্তরী নেই। নিজেই জাতীয় পতাকা উঠানো – নামানোর কাজ করি।
২৬ মার্চ ফজরের নামাজ শেষ করে নিজহাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে চলে এসেছিলাম। পরে আর যাওয়া হয়নি। আমার ভুল হয়েছে। এখনই যাচ্ছি বিদ্যালয়ে। ‘ তাঁর ভাষ্য, ২৫ মার্চও তিনি নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ২৬ মার্চ হয়তো বাচ্চারা পতাকা অর্ধনমিত করে ফেলতে পারে। এটা অপরাধ।
এরপর দুপুর ২টার দিকে মুঠোফোনে তিনি আরও বলেন, ‘ সেদিন আমার খুব দাঁতে ব্যথা ছিলো। অনার্স পড়ুয়া ছেলেকে পতাকা নামানোর বিষয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু ছেলে নামায়নি। বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’
এমন ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও তিন লাখ মা – বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল – সবুজের পতাকা পেয়েছি। এভাবে সরকারি লোকের কাছ থেকে পতাকা অবমাননা মেনে নেওয়া যায়না। যথাযত শাস্তি নিশ্চের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে সুপারিশ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা মুঠোফোনে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তবে বিদ্যালয় চালু থাকলে খোলা ও বন্ধ পর্যন্ত পতাকা উড়বে। এভাবে তিন দিন ধরে পতাকা উড়ানো গুরুতর অবরাধ। শিক্ষককে শোকজ করা হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে নজরে এসেছে। অবশ্যয় তদন্ত সাপক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
