কুমারখালীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৬ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৬

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ২৯, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির মাত্র ৬ শতাংশ জমি নিয়ে চাচাতো ভাই – ভাতিজাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের খালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মুছাম শেখের দাদির রেখে যাওয়া ৬ শতাংশ জমিতে তার চাচাতো ভাই মৃত আতাহার শেখের ছেলে হাবিল শেখের দখলে রয়েছে। এনিয়ে তাঁদের ভাই, ভাতিজা, স্বজন ও সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, ইট, পাটকেল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মুছাম শেখ পক্ষের আহতরা হলেন – কসবা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ প্রামাণিকের ছেলে মুছাম শেখ ( ৫০), তার ছেলে পরান শেখ (২২), মজনু প্রামাণিক (৪৬), তার ছেলে ইমন প্রামাণিক (২০) ও সুমন প্রামাণিক (২২), রাশিদুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (২৭), কামাল হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩২) ও শরিফ বিশ্বাসের ছেলে রিশাদ আলী (১৯)। আর প্রতিপক্ষের আহরা হলেন – হাবিল শেখের স্ত্রী লিপি খাতুন ( ৪৫), তার ছেলে আসিফ (২২), আনছার আলীর স্ত্রী রাশিদা খাতুন (৩৭), ফারুক শেখ (৩৫), তার ছেলে সিজানুর রহমান (২২), আব্দুর রহমানের ছেলে আসিফ হোসেন (২৩), রেজন শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩০), সাজিত হোসেনের ছেলে আকাশ হোসেন (২৩),

পুলিশ, স্বজন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, মুছাম শেখের দাদির প্রায় ৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন তাঁর চাচাতো ভাতিজা হাবিলা শেখ। সম্প্রতি সেই জমি হাবিল অন্যত্রে বিক্রির জন্য ক্রেতা ঠিক করেন। কিন্তু ওই জমির বৈধ কাগজপত্রাদি না থাকায় জমি বিক্রি থেমে যায়। তখন বিষয়টি জানাজানি হলে মুছাম শেখ জমি বুঝে চান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বেশকিছু দিন উত্তেজনা চলছিল।

এরপর  শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুছাম তার লোকজন নিয়ে জমি পরিমাপ করতে যান। তখন হাবিলদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সন্ধার আগ মূহুর্তে ইট – পাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে লাঠি, ঢাল, সরকি, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা কুমারখালী ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাত ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরী বিভাগের কক্ষের ও ভিতরে বাইরে আহত ব্যক্তি ও স্বজনরা ভিড় করেছেন।

আহতদের মাথা, মুখ, হাত, পাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত। প্রাথমমিক চিকিৎসা শেষে অনেকেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের রেফার্ড করা হচ্ছে। এ সময় হাবিল গ্রুপেরে আহত সিজানুর রহমান বলেন, হাবিলের দখলে থাকা ৬ শতাংশ জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন বিরোধ চলছে। আজ (গতকাল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুছাম শেখ তার দলবল নিয়ে জমি মাপতে আসলে তর্কাতর্কি হয়।

পরে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রামদা, রড, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত ৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছি। আর পাল্টা অভিযোগ করে মুছাম শেখের ভাই মজনু প্রামাণিক বলেন, হাবিলের বাবা আমাদের চাচাতো ভাতিজা। আমার দাদির প্রায় ৬ শতাংশ জমি হাবিল ভোগদখলে রেখেছে। কিন্তু জমির কাগজ আমাদের নামে। সেই জমি মেপে বুঝে দেয়না। এ নিয়ে সন্ধায় বসাবসির কথা ছিলো। কিন্তু তার আগেই হাবিল তার লোকজন নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে আমি, মুছামসজ আমাদের ৮ থেকে ৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে কসবার অন্তত ১৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে কুষ্টিয়া রেফার্ড করা হয়েছে।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সামান্য জমি নিয়ে চাচাতো ভাই – ভাতিজারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে এলাকা শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।