কুমারখালীতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মারধরের ভয় দেখিয়ে অভ্যাহতি পত্রে সাক্ষর করানোর অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মারধরের ভয় দেখিয়ে অভ্যাহতি পত্রে সাক্ষর করানোর অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাত, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অপরাধে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইদ্রিস আলমকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধরের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক অব্যাহতি পত্রে সাক্ষর করানো অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৩০-৪০ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঘটে এ ঘটনা। তবে অব্যাহতি পত্রটি গ্রহণ না করেনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও)।

বরং তিনি ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পরে দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র ও মাদ্রাসার সুপার ও অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং উভয়পক্ষকে মিলতাল করে দেন। দুপুর ১২ টার দিকে পান্টি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইদ্রিস আলম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র রমজান আলীসহ ৩০-৪০ ছাত্র সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাদ্রাসায় আসেন। এসে প্রথমে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে দরজা বন্ধ করেন দেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাত, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তুলে তাকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি পত্রে সাক্ষর করতে বলেন।

তিনি সাক্ষর না করলে ছাত্ররা তাকে অপমান করে এবং মারধরের হুমকি দেন। পরে ভয়ে তিনি অব্যাহতি পত্রে সাক্ষর করলে ছাত্ররা পত্রটি নিয়ে চলে যান। দুপুরে পান্টি দাখিল মাদ্রাসায় সরেজমিন গেলে সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা খাতুন বলেন, ছাত্ররা কক্ষের দরজা বন্ধ করে সুপারের সঙ্গে খ্বু খারাপ আচরণ করেছে। এসব নিয়ে সুপার বর্তমানে ইউএনও কার্যালয়ে আছেন। উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক ও পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান ফোনে বলেন, সমন্বয়কদের কথা না শোনায় সুপারকে জোরপূর্বক অব্যাহতি পত্রে সাক্ষর করানোর ঘটনা ঘটেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তাঁর ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র ও সমন্বয়কদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র রমজান আলী। তিনি বলেন, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে। নিজের দোষ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি পত্রে সই করেছিলেন সুপার। তবে ইউএনও পত্রটি জমা না নিয়ে বসাবসি করে ঠিকঠাক করে দিয়েছেন। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে মাদ্রাসা সুপার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ইউএনও সবাইকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। অব্যাহতি পত্রটিও ফেরত দিয়েছেন তাকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি থেকে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বসাবসি করে কিছু সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুলোর সমাধান করা হবে।