মোশারফ হোসেন ॥ বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখি পালন করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার করাদকান্দি গ্রামের তুহিন মাষ্টার। তুহিনের খামারে বর্তমানে ১ ৫ শ’ টি কোয়েল পাখি আছে। এই ফার্ম দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক কোয়েল পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয় বাজের সৃষ্টি হয়েছে কোয়েল পাখির মাংস ও ডিমের বাজার। জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের করাদকান্দি গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন এর ছেলে তুহিন শেখ (৩৮) ২ বছর আগে শখের বশে ছোট পরিসরে ১০০ টি কোয়েল পাখি পালন শুরু করেন। নানা সংকটেও হাল না ছেড়ে পাখির ডিম উৎপাদন ও পালনে মনোনিবেশ করেন। এখন দুটি শেডে তুহিন এর খামারে ১৫ শ’ টি কোয়েল পালন করছেন। প্রতিদিন এখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৫ থেকে ৭ শ’ টি ডিম।
প্রতিদনিই এ কোয়েল ফার্ম দেখতে স্থানীয়সহ অনেকেই আসেন। অনেকে তুহিন মাষ্টার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে বাচ্চা সংগ্রহ করে কোয়েল পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। বর্তমানে খাওয়ার উপযোগী কোয়েল পাখি ৮০ টাকা পিস এবং প্রতি হালি ডিম ১৬ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তুহিন শেখ জানান, একটি কোয়েল বছরে প্রায় ২০০টি ডিম দেয়। প্রতিটি ডিমের ওজন ১৫ থেকে ২০ গ্রাম। ৪৫ দিন বয়স থেকেই কোয়েল পাখি ডিম দিতে শুরু করে। এখন তিনি দুটি বাচ্চা ফোটানোর মেশিন কিনে বাচ্চা উৎপাদন করেছেন। তার খামারে রয়েছে কোয়েল পাখি, ফাউমি মুরগী, ক্যাম্পবেল হাঁস। তার খামারের ডিম ও বাচ্চা ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কোয়েল পাখি পালন করে সাবলম্বী হাওয়া সম্ভব। কুমারখালী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমিষের চাহিদা মেটাতে কোয়েল পাখির মাংস বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি কোয়েল পাখির খাবার খরচ কম হওয়ায় এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। এ বিষয় জেলা প্রাণিসম্পদ সবাইকে সহযোগিতা করছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোয়েল পাখির ডিম এবং মাংসের একটি চাহিদা আছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টেও কোয়েল পাখির মাংস বিক্রি হচ্ছে।
