কুমারখালীতে ঈদে মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গোস্তের সমিতি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ঈদে মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গোস্তের সমিতি 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৯, ২০২৬

মোশারফ হোসেন ॥ ঈদে মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘গোস্তের সমিতি। “ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি” সেই আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে কুষ্টিয়া কুমারখালীর গোস্তের সমিতি। নিম্ন আয়ের বেশ কয়েকজন মিলে একটি সমিতি বা সংগঠন তৈরি করে। যার নাম দেওয়া হয় ‘গোশত সমিতি’। সমিতির সদস্যরা সাপ্তাহিক বা মাসিকভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করে।

ঈদ, শবে বরাত, শবে কদর, যে কোনো উৎসব এবং গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে সেই সমিতির মাধ্যমে জমাকৃত টাকায় গরু কিনে গোশত ভাগাভাগি করে নেয়া হয়। কুমারখালী উপজেলার পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা এই সংগঠনগুলো । ২৫ রোজা থেকেই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। যা এক সপ্তাহে প্রায় ৪ শ’ টি গরু জবাই করা হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন জানান, গ্রামের মানুষ এভাবে গোস্ত সমিতি গড়ে তুললে মাংসের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

গোস্ত সমিতিকে সাধুবাদ জানাই।  সমিতির সঙ্গে জড়িতরা বলেন, বর্তমান বাজারে গরুর গোস্ত কেনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। একবারে এত টাকা দিয়ে গরুর মাংস কিনে খাওয়া অনেকটা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের মাংসের চাহিদা মেটাতে এই সমিতি বছরজুড়ে চাঁদা তোলে। সেই চাঁদার টাকায় ঈদের আগে গরু কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করে নেয়। গতকাল (১৮ মার্চ) বুধবার সকালে কুমারখালী পৌরসভার খয়েরচারা গ্রামের পাকা সড়কের পাশেই মাংসের পসরা ঘিরে মানুষের জটলা।

গরিবের সমিতি নামে পরিচিত মাংসের সমিতির সেহেরির পরপরই গরু জবাই করা হয়েছে। চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে মাংস কাটা মাপযোগে ব্যস্ত মানুষ। এটি কোরবানির ঈদের আয়োজন না হলেও আমেজটা তার চেয়ে কম নয়। গ্রামের মানুষ এভাবে গোস্ত সমিতি গড়ে তুললে মাংসের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। গোস্ত সমিতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার এক সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাধিক গরু জবাই করা হবে। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ৯ কোটি টাকার অধিক। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। একবারে এত টাকা দিয়ে গরুর মাংস কিনে খাওয়া অনেকটা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের মাংসের চাহিদা মেটাতে এই সমিতি বছরজুড়ে চাঁদা তোলে।

সেই চাঁদার টাকায় ঈদের আগে গরু কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করে নেয়। ভ্যানচালক গফুর শেখ জানান, অভাবের সংসারে খেয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন। ভ্যান চালিয়ে বর্তমান বাজারে গরুর গোস্ত কেনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একারণেই তিনি গ্রামের একটি সমিতিতে মাসিক ৪০০ টাকার গোস্ত সমিতির সদস্য হয়েছিলাম। এই বার প্রায় ৪ কেজি মাংস পেয়েছি। এই দিয়েই ঈদ চলে যাবে। তেবাড়িয়া গ্রামের সমিতির উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ছয় বছর ধরে গোস্ত সমিতি তত্ত্বাবধান করছেন। এবছর তার সমিতির সদস্য ১৫০ ।

সদস্যরা মাসিক ৪০০ টাকা করে অর্থ সঞ্চয় করেছেন তার সমিতিতে। সেই টাকায় ছয়টি এঁড়ে গরু কিনে মাংস বন্টন করছেন। প্রতিকেজি মাংসের দাম পড়েছে ৭০০ টাকা। বাজার দরের চেয়ে কম দামে বেশি পরিমাণ মাংস পেয়ে সদস্যরাও খুশি। তাদের সমিতির মতো এই গ্রামেই অন্তত ১০টি গোস্ত সমিতি রয়েছে। কুমারখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষ এভাবে গোস্ত সমিতি গড়ে তুললে মাংসের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। গোস্ত সমিতিকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।