কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক দফার দাবিতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র, জনতা, বিএনপি-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দফায় দফায় হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহাসড়কস্থ কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর, তরুনমোড়, কাজীপাড়া মোড় ও উপজেলা পরিষদ সড়কে চলে এ সংঘর্ষ।
এতে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, আওয়ামী লীগ নেতাসহ অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন-শিক্ষার্থী রাহাত, নাইস ও ইয়াসিন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কর ও জিকু, ছাত্রলীগ নেতা শান্ত, পুলিশের এ এস আই মহসিন প্রমূখ। জানা গেছে, সকাল থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, বিএনপি, শিবির ও জনতা কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজ চত্বরে জড়ো হতে থাকে।
সকাল ১০ টার দিকে তারা লাঠিসোটা, ইট পাটকেলসহ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় এসে সড়ক অবরোধ করে এবং প্রধান শহরে ঢুকার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের বেরিকেড দিয়ে রাখে। পরে তারা পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে শহরে ঢুকে পড়ে। এসময় পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সেসময় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর শুরু হয় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ ৭ জনকে তারা চিকিৎসা দিয়েছেন। ৫ জনের মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগেরে দপ্তর সম্পাদক আশাদুর রহমান আশা জানান, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে জামাত, বিএনপি, শিবির ভাংচুর, ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও নাশকতা করছে। তারা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মাঠে কাজ করছেন। তবে এবিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম।
