কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রায় দেখা মিলেছে ৪০ বিখ্যাত মনীষীর। এর মধ্যে ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মীর মশাররফ হোসেন, ফকির লালন শাহ, নবাব সিরাজুদৌলা, বিপ্লবী, কাজী মিয়াজান, বাঘা যতীন, কাঙাল হরিনাথ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেকে। তারা আসল নন ছিলেন ডামি। প্রতীকী হলেও তাদের মাধ্যমে দারুণভাবে ফুটে ওঠে বিখ্যাত এসব ব্যক্তির অবিকল চেহারা। তাদের দেখে মুগ্ধ হয়েছেন নতুন প্রজন্মের দর্শনার্থীরাও।
শোভাযাত্রায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নানান চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়। গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এমন বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে কুমারখালী শিল্পকলা একাডেমি থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে উপজেলা প্রশাসন। এটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম চত্বরে শেষ হয়।
সেখানে খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ। শিল্পকলা একাডেমির ১২০ সংগীত ও নৃত্যশিল্পী এতে অংশ নেন। কুমারখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, শোভাযাত্রায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পিয়ারী সুন্দরী, কাজী মিয়াজান, মীর মশাররফ হোসেনসহ অসংখ্য মনীষীকে দেখে খুব ভালো লেগেছে। কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাত্র সুমন হোসেন বলেন, শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ৪০ মনীষীর ডামি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জাঁকজমক হয়েছে আয়োজন।
এখান থেকে নতুন প্রজন্ম অনেককিছুর বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারছে। বৈশাখের শোভাযাত্রায় মীর মশাররফ হোসেনের ডামি চরিত্রে থাকেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান মানু। তিনি বলেন, প্রতি বৈশাখে একই চরিত্রে থাকি। নিজের কাছে খুবই ভালো লাগে। সম্রাট আকবরের ডামি সাজেন চয়ন শেখ। পান্টি এলাকার মিলন হোসেন সাজেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। টিপু সুলতানের চরিত্রে ছিলেন কুমারখালী বণিক সমিতির সভাপতি কে এম আলম টমে।
নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের পরিচিত করতে ৪০টি ডামি চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও সাংস্কৃতিক জনপদের বিভিন্ন চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে জানান ডামি পরিচালক ও কুমারখালী তাঁতবোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান। ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, আনন্দ শোভাযাত্রায় বিখ্যাত ব্যক্তি ও মনীষীদের চরিত্র দেখে সবাই মুগ্ধ। ডামি ছাড়াও চিড়া-দই খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে অনুষ্ঠানে।
