কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দুরে চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে বাড়িতে স্বপরিবারে গিয়েছিলেন এক আইনজীবি। পরে প্রতিবেশীদের চেঁচামেচিতে ছুটে এসে দেখেন ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও স্বাক্ষর করা যমুনা ব্যাংকের একপাতা চেক নেই। এনিয়ে প্রতিবেশী তিন ভাইয়ের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ওই আইনজীবি ও তাঁর সমর্থকদের। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামের আইনজীবি নাজমুল হকের বাড়িতে গত শুক্রবার দুপুরে এ চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে এবং পাবনা ফৌজদারি আদালতের আইনজীবি। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে তিনজনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই আইনজীবি। ভুক্তভোগী আইনজীবি নাজমুল হক বলেন, গত শুক্রবার দুপরে স্বপরিবারে চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে খেতে গিছিলাম।
সেসময় প্রতিবেশী জিন্নাহ প্রামাণিকের তিন ছেলে সোহেল (২৬), জীবন (২২) ও সেলিম (৩০) ঘরের ওয়ারড্রপ আলমারির তালা ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা, যমুনা ব্যাংকের স্বাক্ষর করা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এক পাতা চেক ও প্রায় আট লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে। তাঁরা চুরি করে বাড়ির পিছনের গেট দিয়ে পালাচ্ছিলেন। সে সময় স্থানীয়রা মিলে তাঁদের আটক করার চেষ্টা করলে তাঁরা মারধর করে পালিয়ে যায়। সুষ্ঠ বিচারের আশায় শনিবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। আইনজীবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সোহেল। তিনি বলেন, আমরা বাগানে বসে মোবাইলে গেইম খেলছিলাম। সেসময় আইনজীবি নাজমুল লোকজন নিয়ে এসে চোর চোর বলে আমাদেরকে মারধর করেছে। তাঁর ভাষ্য, জমির আইল নিয়ে নাজমুলের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার আছে। সেজন্য নিজেরায় বাড়িতে ভাঙচুর করে মিথ্যে চুরির দোষ দিচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
