কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে বৈধ কাগজপত্রাদি না থাকায় এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের অপরাধে বিএবি ইটভাটা মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরদিকে একই অপরাধে সাগর ব্রিকস নামক ইটভাটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে অভিযান চালায় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম। আদালত পরিচালনায় সহযোগীতা করে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইমদাদুল হক, পুলিশ প্রমূখ। এদিকে একই অপরাধে পাশাপাশি দুইটি ইটভাটায় দুই রকম অভিযানে ক্ষুব্ধ ইটভাটা মালিক ও স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের স্বজনপ্রীতিতে বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ ইটভাটা। এতে হুমকিতে পড়েছে ফসলসহ কৃষিজমি, জীব, জীবন ও প্রকৃতি।
আইনঃ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ ( ২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন) অনুযায়ী পরিবেশ, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে ইটভাটা স্থাপন, লাইসেন্স গ্রহণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম সংবলিত একটি আইন [৭, ৮]। এটি আবাসিক, সংরক্ষিত, বাণিজ্যিক, কৃষি, বা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালী শহর-পান্টি সড়ক ঘেঁষে কেশবপুরের বিএবি ইটভাটা। ভাটার চারিদিকে কলাবাগান, বেগুনসহ হরেকরকম সবজি ও ফসলের চাষাবাদ। ভাটায় নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনিতে জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন গাছের কাঠ।
এই ভাটার পাশেই অবস্থিত সাগর ব্রিকস। সেখানকার কাঁচা ইট ও ইট পোড়ানোর স্থানটিতে ভাঙা ক্ষত। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাগর ব্রিকসের এক কর্মচারী বলেন, পাশাপাশি দুটি একই রকমের ভাটা। আইনও এক। কিন্তু একটি ভেঙে গুড়িয়ে দিলো আর অন্যটিতে শুধু জরিমানা। এটা অন্যায়। আইন সবার জন্য সমান হওয়া দরকার। বিএবি ভাটার পার্টনার আসলাম হোসেন বলেন, খুব বেকায়দায় পরে অনেক ধার-দেনা করে অবৈধ জেনেও ভাটা চালাচ্ছি। আজ প্রশাসন কিছু ইট ভেঙে দিয়েছে। আরও এক লাখ টাকা জরিমানা করে ১৫ দিন সময় দিয়েছে নিজ দাঁয়িত্বে অপসারণ করার। নয়লে ভেঙে দিবেন প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, কৃষিজমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এতে কতিপয় কয়েকজন লাভবান হলেও অধিকাংশ কৃষকরায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিবছরই প্রশাসন ভেঙে দেয়, মুচলেকা নেই। কিন্তু ভাটা চলমানই থাকে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান তারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, সাগর ব্রিকসকে অতীতে অনেকবার ভাটা অপসারণ বা বৈধভাবে নির্মাণের নির্দেশনা ও জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কথা দিয়েও কথা রাখেনি। তাই ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সাগরের দেখাদেখি বিএবি ইটভাটাটি অবৈধভাবে চলছিল। প্রথমবার হওয়ায় আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরে আর চলবে না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ৬ ধারা অনুযায়ী একটি ভাটাকে ( বিএবি) এক লাখ টাকা জরিমানা করে ১৫ দিনের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। একই আইনে অপর ভাটাটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ধারা উল্লেখ করা হয়নি। একই আইনে দুই রকম প্রয়োগ হলো কি না? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেন নি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।
