কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ স্ত্রীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ২১ দিন জেলহাজতে থেকেও তথ্য গোপন করে বেতন ও ছুটি ভোগের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম উপজেলার বাগুলাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বুধবার বিকেলে ওই শিক্ষকের স্ত্রী নাজমুন্নাহার বিউটি কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে আশরাফুলের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তাঁর স্ত্রী।
ওই মামলায় গত ১১ জানুয়ারি আদালত আশরাফুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলহাজতে ছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কারাগারে গেলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও, আশরাফুল বিষয়টি গোপন করে ৫ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষকের কাছে এক মাসের মেডিকেল ছুটি’র আবেদন করেন। আশরাফুল তাঁর ছুটির আবেদনে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিলসংবলিত প্রেসক্রিপশন জমা দেন। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মো. আহসান হাবিব জানান, তিনি কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন লিখেন; কিন্তু শিক্ষক আশরাফুলের প্রেসক্রিপশনটি হাতে লেখা। ওই শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এ ধরনের প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে ফোনে বলেন, ‘আমার ছুটি দরকার ছিল নিছি। এমন সার্টিফিকেট আমার কাছে মেলা আছে। আপনারা যা পারেন করেন গা। প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন প্রথমে ছুটিকে বৈধ দাবি করলেও পরে বলেন, ‘তথ্য গোপন ও জালিয়াতির বিষয়টি পরে জেনেছি। অপরাধী যেই হোক, তাঁর বিচার হওয়া উচিত।’ অন্যদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক গতানুগতিকভাবে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। তথ্য গোপন করা বড় অন্যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগকারী স্ত্রী নাজমুন্নাহার বিউটি বলেন, ‘আশরাফুল প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন তুলেছেন। আমি সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
