কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে নৌকা প্রতীক পেয়েও স্বস্তিতে নেই তিনবারের এমপি ১৪ দলের প্রার্থী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তাকে চেপে ধরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদ্য পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন।

কামারুল আরেফিন ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা কামারুল নেতা-কর্মিদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। এ কারনেই প্রচার-প্রচারনায় জমে উঠেছে ভোটের মাঠের লড়াই। দুটি উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের প্রায় বড় অংশের নেতা-কর্মিরা কামারুলের ট্রাকে উঠেছে, বাকি ছোট্ট একটি অংশ ইনুর নৌকায় উঠে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছে। দলের বড় অংশ ইনু বিমুখ হয়ে কামারুলের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্যদিকে নৌকা পেয়েও হারের ঝুঁকিতে হাসানুল হক ইনু।
আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতা-কর্মিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,‘ বিগত তিনটি নির্বাচনে নৌকায় চড়ে সহজেই জয়ের বন্দরে ভীড়ে যান হাসানুল হক ইনু। এবার নৌকা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের পচন্ড বিরোধিতার মুখে পড়েন। ইনুকে বয়কট করে দুই উপজেলার নেতারা কামারুলকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামান। আর কামারুল আরেফিন প্রার্থী হওয়ার পর মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। জাসদের প্রতি রাগ-ক্ষোভ থেকে আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মিরা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ীক সংগঠন তাকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠে কাজ করছে। জানা গেছে, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছেন। পাশাপাশি মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাসসহ ১১টি ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও সব পর্যায়ের নেতা-কর্মিরা কামারুলকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের মাঠে আছে।
ভেড়ামারাতেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল আলম চুনু, সাধারন সম্পাদক শামীমুল ইসলাম ছানা, সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান মিঠুসহ সব পর্যায়ের নেতা-কর্মি কামারুলের সাথে নির্বাচনী মাঠে আছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যানরা কামারুলের ট্রাকে উঠেছে। অপরদিকে ইনুর সাথে ভেড়ামারা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কোন পদধারী নেতাকে দেখা যায়নি। তবে মিরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক, জেলা যুবলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আতাহার আলীসহ দুটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানরা তার সাথে আছে।
কামারুলের নির্বাচন করছেন এমন দুই নেতার সাথে কথা হলে বলেন,‘ ১৫ বছরে ইনু এমপি থাকাকালিন সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মিরা নির্যাতিত হয়েছে, উন্নয়ন হয়েছে জাসদের গুটিকয়েক নেতার। তারা ভাগাভাগির রাজনীতি করে। তাই দলকে বাঁচাতে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুলের পক্ষে মাঠে নেমেছি। দুই উপজেলার মানুষ ইনুকে আর চাই না।’ কামারুল আরেফিন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে দেশসেরা উপজেলা চেয়ারম্যানের পদক লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন,‘ আমাদের ভোট নিয়ে ইনু এমপি হলেও নির্বাচিত হওয়ার পর নানা কারনে সম্পর্কের টানাপোড়েন হয়েছে। আমাদের কর্মিদের হত্যা করা হয়েছে। মিরপুর ও ভেড়ামারার মানুষ কামারুলকে পেয়ে জেগে উঠেছে। তারা পরিবর্তণ চাই।’ এদিকে কুষ্টিয়া-২ আসনে মোট ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছিলেন। এরমধ্যে বিএনএমএর প্রার্থী শেখ আরিফুর রহমান সরে দাঁড়িয়ে ট্রাক প্রতীকের সমর্থন দিয়েছেন। তার পক্ষে মাঠে কাজও করছেন। এছাড়া আরেক স্বতস্ত্র প্রার্থী ডা. এসএম মুসতানজীদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভেতরে ভেতরে কামারুলের পক্ষে কাজ করছেন। নেতা-কর্মিরা ছাড়াও স্থাণীয়রা বলেন, গত ৪০ বছরে মিরপুর উপজেলা থেকে কেউ এমপি হয়নি। এবার তারা সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। এবার মিরপুরে এমপি চান তারা। ভেড়ামারা উপজেলার থেকে মিরপুরে ভোটারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বেশি হওয়ায় মিরপুর উপজেলার বাসিন্দারা মনে করেন, ভেড়ামারা উপজেলা থেকে বারবার সংসদ সদস্য (এমপি) পেয়েছে। এবার আমরা আমাদের এলাকার মানুষ সংসদে যাক।
উপজেলার তথ্য মতে দুই লাখ ৭১ হাজার ভোটার রয়েছে মিরপুর উপজেলায়। এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ভোটার রয়েছে ভেড়ামারা উপজেলায়। তাই মিরপুরে ভোটের বড় অংশ কামারুলের বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, পাশাপাশি ভেড়ামারার ৫টি ইউনিয়ন থেকেও কামারুল ভাল ভোট পাবেন বলে আভাস মিলেছে। কামারুল আরেফিন বলেন, তৃণমূলের শতভাগ নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছেন। ইউনিয়ন-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গে আছেন। মানুষ ট্রাকে উঠে পড়েছে, ইনু আর জাসদের দু:শাসনের বিপক্ষে মানুষ মাঠে নেমেছে ভোট দেওয়ার জন্য। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমি মাঠে আছি। কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জোটের প্রার্থীর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। জাসদ ও আওয়ামী লীগ দুই ভাইঃ আমরা একসঙ্গে আছি, একসঙ্গে লড়বো। আমি ১৫ বছর এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে হাঁটছি-চলছি। আমি আমার সাধ্যমতো এই এলাকার মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন করেছি, শান্তির পথ তৈরি করেছি।
