কঠিন জীবন যুদ্ধে চল্লিশোর্ধ্ব নারীরা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কঠিন জীবন যুদ্ধে চল্লিশোর্ধ্ব নারীরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আমেনা খাতুন, বেনু বালা, আয়েদা, রেনু, মরিয়ম বেগম, সাহারা খাতুন, জমিলা খাতুন, রাহেলা বেগম ও সুফিয়া খাতুনের বয়স চল্লিশের ওপরে। ১০ জনের এই নারী শ্রমিক দল কঠিন জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। বেঁচে থাকার জন্যে করছেন সংগ্রাম। দরিদ্রতা হটানোর জন্য ক্ষুধাকে নিবারণের জন্যে বেছে নিয়েছেন শক্ত কঠিন কাজ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত করছেন রাস্তার মাটি কাটার কাজ। শক্ত মাটিতে খুব জোরে কোদাল চালাতে হবে। ঝুড়ি ভরে তুলে দিতে হবে সঙ্গীর মাথায়। সঙ্গী মাথায় করে ঝুড়িভর্তি মাটি এনে ফেলছেন রাস্তায়। অপর সঙ্গীরা দুরমুজ মেরে সমান করছেন রাস্তা।

তাদের কাটা মাটি দিয়ে নির্মিত হচ্ছে রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। কেউ চলছে বিভিন্ন যানবাহনে আবার কেউ চলছে পায়ে হেঁটে। এসব নারীরা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা মেরামত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের কাজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত মাটি কেটে রাস্তা ঠিক করা। দু’মুঠো ভাতের জন্য শক্ত কঠিন কাজ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এই জীবনযুদ্ধের গল্প।  কুষ্টিয়া শহর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের রাস্তা মেরামতের সময় কথা হয় নারী শ্রমিকদের সঙ্গে। আমেনা খাতুনের (৪৫) বাড়ি ধরমপুর গ্রামে।

স্বামী মারা গেছে বেশ কয়েকবছর আগে। তার ৩ ছেলেমেয়ের মধ্যে ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে, নেয় না খোঁজ। এর, ওর দুয়ারে কয়বার চেয়ে খাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছেন মাটি কাটার কাজ। আমেনা খাতুন অর্থাভাবে উপযুক্ত মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না। দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকার জন্যই তিনি মাটি কাটতে এসেছেন। জায়েদারও বয়স চল্লিশের কোটা পেরিয়ে গেছে। তারও স্বামী মারা গেছে। তিনি টাকার অভাবে মেয়ে বিয়ে দিতে পারছেন না। বেনু বালা, আয়েদা খাতুন, রেনু, মরিয়ম বেগম, সাহারা খাতুন, জমিলা খাতুন, রাহেলা বেগম, সুফিয়া খাতুন,সবারই বাড়ি ধরমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

সবাই স্বামীহারা বিধবা। জমিলা খাতুন, রাহেলা বেগমের স্বামী বেঁচে থাকলেও স্বামী তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। বিধবা প্রায় সব নারী শ্রমিকেরই ঘরে উপযুক্ত মেয়ে রয়েছে। কিন্তু পয়সার অভাবে বিয়ে দিতে পারছেন না। নারী শ্রমিকরা বলেন, ৩-৪ কিলোমিটার দূর থেকে পায়ে হেঁটে এসে সকাল ৮টায় কাজ শুরু করি। দুপুরে বাড়ি থেকে আনা শুকনো রুটি, মরিচ ভর্তা দিয়ে খেয়ে বিকেল পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করি। বেঁচে থাকার জন্যই মাটি কাটার কাজে জড়িয়ে পড়েছি। এসব নারী শ্রমিকরা রাস্তায় ছোট-বড় গর্ত সংস্কার করেন। নতুন রাস্তা নির্মাণ করেন। কিন্তু তাদের জীবনের পথ নির্মাণ করতে পারছেন না। নির্মাণ করতে পারছেন না একটি সুখের সংসার। দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই তাদের। তবুও থামছেন না তারা, বাঁচার নিরন্তর সংগ্রাম চলছেই।