বিশেষ প্রতিনিধি ॥ এক সময় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার হিসনা নদী ছিল জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদীর বুক চিরে ছুটে চলত নৌকা, জেলেদের জালে ধরা পড়ত মাছ, আর নদীর পাড়ে গড়ে উঠত মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন। আজ সেই নদী যেন কেবল স্মৃতির অংশ, কচুরিপানার ভারে নুয়ে পড়া, দখলবাজদের জালে বন্দি এক নীরব জলধারা। সম্প্রতি হিসনা নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পুরোটা জুড়েই কচুরিপানার স্তূপ। কোথাও পানি চোখে পড়ে না, কোথাও আবার কচুরিপানার সঙ্গে আটকে আছে ময়লা-আবর্জনা।
স্রোতহীন এই নদীতে অতিরিক্ত কচুরিপানা জন্মে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই নদীতে নিয়মিত নৌকা চলাচল করত। মাঝিরা যাত্রী ও মালামাল বহন করতেন স্বাচ্ছন্দ্যে। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানা ও অবৈধ দখলের কারণে নৌকা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। নদীর বিভিন্ন স্থানে বেড়া ও জাল ফেলে মাছ চাষ করায় নদীর প্রস্থ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। কোথাও আবার ময়লা ফেলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুরো এলাকার জীবনযাত্রায়। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে পড়েছেন বিপাকে। কৃষকদের বাড়তি শ্রমিক খরচ বহন করতে হচ্ছে। জেলেদের জীবিকা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। বাড়ির সামনেই নৌকা ও ঘাট থাকা সত্ত্বেও কচুরিপানা ও নদী খননের অভাবে সেগুলো এখন অচল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজগর আলী আক্ষেপ করে বলেন, “এই নদীতে একসময় মানুষ গোসল করত, মাছ ধরত। জেলেরা এখান থেকেই সংসার চালাত। কত ইতিহাস জড়িয়ে আছে এই নদীর সঙ্গে। ব্যবসায়ীরা অল্প খরচে মালামাল নিয়ে যেত। আজ আমরা সবাই কষ্টে আছি। জনপ্রতিনিধিরা জানেন, দেখেন, তবু না দেখার ভান করেন।” এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট, হিসনা নদীকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ, নদী খনন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। নচেৎ ইতিহাস আর জীবনের সাক্ষী এই নদী একদিন মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।
