বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বরিয়া এলাকায় সম্প্রতি সামাজিক দ্বন্দ্বে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার বেশ কিছু পরিবার। গত (০৮ মার্চ) সকালে বরিয়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।
বিএনপির শীর্ষ নেতা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার তার ব্যক্তিগত ভেরিফাই ফেসবুকে জানান, এটা কোন সভ্য সমাজের অংশ হতে পারে না। এই ঘটনাকে যারা রাজনৈতিক রং লাগিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা, আপনারা কখনই সফল হবেন না। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
এব্যাপারে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে কোনো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুঃখজনক। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি এলাকার মানুষকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটাতে সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, সাম্প্রতিক সামাজিক বিরোধের জেরে তারা বিভিন্নভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ অবস্থায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের পাশে পাওয়া তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। তবে বিজ্ঞ মহল আশা করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই দ্বন্দ্বের সমাধান হবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বড়িয়া ২নং ওয়ার্ডে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এ গ্রামে বসবাস করে কৃষিসহ বিভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া সদর আসনে ভোটের লড়াই করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন জামায়াত প্রার্থী আমির হামজা। এরই জের ধরে বরিয়া গ্রামের কয়েকটি এলাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সাবেক মেম্বর আব্দুল হান্নান গ্রুপের সাথে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইফুলের লোকজনের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের সূত্রপাত ঘটে। এতে আহত হয় নারীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনকারীরা, এছাড়াও দেড় শতাধিক বাড়ী ঘরে চালায় মহা তান্ডব, লুট হয় ঘরের আসবাবপত্রসহ গরু ছাগল। পরবর্তীতে দু’পক্ষের মামলায় এখন গ্রামটিতে পুরুষ শূন্য হওয়ায় দিন-রাত আতংকের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন গৃহবধু নারীরা। তাদের দাবী অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে যেকোন মূল্যে গ্রামে শান্তি ফিরে পাওয়ার আশায় বুক পেতে আছেন তারা।
